ভোপালের গ্যাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি তাঁরকিন্তু কোভিড-১৯ থেকে রক্ষা পাননিতার আগে অবশ্য সরকারি হাসপাতালেই হতে হয়েছিল ধর্ষণের শিকারমৃত্যুর একমাস পর ভয়ঙ্কর খবর পেলেন আত্মীয়রা

গত ৭ এপ্রিল রাতে মধ্যপ্রদেশের ভোপাল মেমোরিয়াল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে মৃত্যু হয়েছিল এক ৪৩ বছর বয়সী কোভিড আক্রান্ত মহিলার। তাঁর মৃত্যুর এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর, তাঁর নিকটাত্মীয়রা জানতে পারলেন মৃত্যুর ২৪ ঘন্টা আগেই তাঁকে ওই সরকারি হাসপাতালেই ধর্ষণ করেছিল এক ওয়ার্ড বয়। কোভিড আবহে, বিজেপি-শাসিত রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এল সামনে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গোটা দেশ যখন এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোভিড মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কুর্নিশ জানাচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবা কর্মীদের, তখন এই ঘটনা তাঁদের মাথা লজ্জায় নত করে দিয়েছে। ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করা এক সংগঠনই এই ঘটনাকে প্রচারের আলোয় এনেছে। সম্প্রতি তাঁরা ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় ভুক্তভোগীদের চিকিত্সা পুনর্বাসন কমিটির চেয়ারম্যানকে, একটি চিঠি লিখে, ভোপালে সরকারি হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের এই শোচনীয় অবস্থার বিষয়ে জানায়। আর তারপরেই ওই মহিলার আত্মীয়রাও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন।

ওই সংগঠনের লেখা চিঠির বয়ান অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় বেঁচে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু, অন্যান্যদের মতোই তাঁরও শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। এই অবস্থায় এপ্রিলের শুরুতে তিনি কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ভোপাল মেমোরিয়াল হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানেই এক ওয়ার্ড বয় তাঁকে ধর্ষণ করে। গত ৬ এপ্রিল ওই মহিলা সেই কুকীর্তিকারী ওয়ার্ডবয়কে চিহ্নিত করে, ডাক্তারদের কাছে পুরো বিয়ষটি খুলে বলেছিলেন। তবে এরপরই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটেছিল। ৭ এপ্রিল তাঁকে ভেন্টিলেটরের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু, সেই রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

তারপর থেকে এতদিন পর্যন্ত মহিলার বাড়ির লোক কিছু জানতে না পারলেও বসে ছিল না প্রশাসন। ডাক্তাররা তাঁর যে বয়ান রেকর্ড করে পুলিশেরহাতে তুলে দিয়েছিলেন, তার ভিত্তিতে অভিযুক্ত ওই ওয়ার্ড বয়কে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ভোপালের ডিআইজি। ধর্ষণ-সহ বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা দায়ের করে, পরের দিনই তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত এখনও কারাবন্দি এবং পুলিশ এই মামলার সমস্ত প্রমাণাদি সংগ্রহ করে আদালতে তাকে উপস্থাপন করবে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্থের পরিবার যাতে ন্যায়বিচার পায়, তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই বিষয়ে পুলিশকে সবরকমের সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি।

তবে ওই ওয়ার্ড বয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও ভোপালের ওই হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া এক ২৪ বছর বয়সি মহিলাকেও ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছিল, বলে জানা গিয়েছে। তাই আগেই তাকে কেন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি বা তার বিরুদ্ধে কোনও শ্বাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সেই প্রশ্নও উঠছে। তবেষ ভারতের এই একটি রাজ্য থেকেই কোভিড আক্রান্তদের উপর যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে তা নয়, অন্যান্য রাজ্য থেকেও একই ধরণের ঘটনা ঘটার খবর পাওয়া গিয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে গুজরাতের রাজকোট শহরের একটি সরকারি হাসপাতালে, এক ৫৫ বছর বয়সী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল হাসপাতালের এক কর্মীকে।

*সঙ্গের ছবি প্রতিনিধিত্বমূলক