করোনাভারাইসের সংক্রমণের কারণে গত ৪ মাস ধরে সবরকম উৎপাদন বন্ধ ছিল চিনে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক বলেই দাবি করা হয়েছে বেজিং-এর পক্ষ থেকে। ধীরে ধীরে শুরু হয়েছে উৎপাদন। কিন্তু তা নিয়েও তেমন আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন না ভারতের ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি। কাঁচামালের জন্য ভারতের একাধিক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা মূলত চিনের ওপরই নির্ভরশীল। এই অবস্থায় তাঁদের অভিযোগ প্রয়োজনীয় ওষুধের কাঁচামালের দাম একধাক্কায় ১৯০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে।  ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্টিবায়টিক, অ্যাজিথ্রোমাইসিন, অরনিডাজোল, অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ, প্যারাসিটামল থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৬০ শতাংশ থেকে প্রায় ১৯০ শতাংশ বাড়ান হয়েছে দাম। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, নিমসুলাইডের দাম, জানুয়ারির থেকে কেজি প্রতি ৪৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০০ টাকা। যা প্রায় ১৮৯ শতাংশ বেশি। অ্যাজিথ্রোমাইসিনের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ৬৫০ টাকা থেকে হয়েছে ১০,৫০০ টাকা। আর প্যারাসিটামলের দাম দুই শতাংশ বেড়ে ২৬২ টাকা থেকে হয়েছে ৪৫০ টাকা। 

গোটা বিশ্বেই ওষুধ তৈরির কাঁচামালের অন্যতম প্রস্তুতকারক দেশ হল চিন। ওষুধ শিল্প কাঁচামালের জন্য ভারত যেথেতু এখনও চিনের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল তাই এই দাম বৃদ্ধি রীতিমত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারতীয় খোলা বাজারে ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এপিআই বছরে মাত্র ১০ শতাংশ দাম বৃদ্ধির অনুমতি দেয়। কিন্তু তাতেও লাভের আশা তেমন থাকবে না বলেই মনে করছে ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা গুলি। 

আরও পড়ুনঃ করোনার আঁতুড়ঘর উনানে মৃতের সংখ্যা আচমকাই বাড়িয়ে দিল চিন, ওয়েট মার্কেট নিয়েও মুখ খুলেছে বেজিং ...

আরও পড়ুনঃ হাজার টাকার বিনিময় মাত্র ১০ মিনিটেই করোনা নির্ণয়, নতুন টেস্ট কিট তৈরি কেরলের সংস্থায় ...

অন্য এক ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থার কথায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গত জানুয়ারি মাস থেকেই চিনে ওষুধসহ একাধিক শিল্পক্ষেত্র স্তব্ধ ছিল। বন্ধ ছিল উৎপাদন। চিনের বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তারা বরাত পেতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক বলেও জানান হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে বর্তমানে ভারতে প্রায় স্তব্ধ উৎপাদন। জরুরী কয়েকটি ক্ষেত্র ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ওষুধের মত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে উৎপাদন চালু রয়েছে দেশে। কিন্তু কাঁচামাল কিনতে গিয়েই রীতিমত নাভিশ্বাস উঠেছে দেশীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির।