ধীরে ধীরে ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হটস্পট হিসেবে সামনে আসছে দক্ষিণ দিল্লির নিজামুদ্দিন। মার্চের মাঝামাঝি (৮-১০ তারিখে)একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন এই এলাকায়। তখন বাড়ছিল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। কিন্তু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মানা হয়নি সামাজিক দূরত্ব। যার ফল হাতেনাতে পাচ্ছেন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জড়ো হওয়া ভক্তেরা। পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিজামুদ্দিনে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে জড়ো হওয়ার ১২৮ জনের দেহে করোনাভাইরাসের নমুনা পাওয়া গেছে। যারমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। 

নিজামুদ্দিনের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই নড়চড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন। ইতিমধ্যেই সবকটি রাজ্যকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশই নজর রাখতে বলা হয়েছে নিজামুদ্দিনের তাবলীগি জমায়েতে অংশগ্রহণকারীদের গতিবিধির ওপর। কেন্দ্রীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তাবলীগের জমায়েতে ইন্দোনেশিয়া ও মালেশিয়ার প্রচুর মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। শতাব্দী প্রাচীন এই মসজিদের অনুষ্ঠানে বাইরের দেশ থেকেও এসেছিলেন প্রচুর মানুষ। ইতিমধ্যেই সেই সব মানুষদের চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছে। ২৮ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানান হয়েছে, যাঁরা পর্যটন ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন অবিলম্বে তাঁদের রিপোর্ট করতে হবে। সেখান থেকেই চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে কারা কারা নাজিমুদ্দিনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।চিহ্নিতকরণের পর হয় তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে, না হলে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।  তবে ওই ধর্মীয় অনুষ্ঠানো অংশা বহু ব্যক্তিকেই ইতিমধ্যে কোয়ারান্টাইনে পাঠান হয়েছে। 
আরও পড়ুনঃ অজিত ডোভালের হস্তক্ষেপেই নিজামুদ্দিনে সাফাই অভিযান, সরিয়ে দেওয়া হয়েছে স্থানীয়দের

আরও পড়ুনঃ আবারও দিল্লিতে করোনায় সংক্রমিত চিকিৎসক, বন্ধ করে দেওয়া হল সরকারি হাসপাতাল  

 


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে ইতিমধ্যে জানান হয়েছে ২১০০ জন বিদেশী পর্যটক অংশ নিয়েছিলেনা। বর্তমানে অনেকেই ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছেন। আরও জানন হয়েছে ৭০টি দেশের মানুষ জড়ো হয়েছিলেন নিজামুদ্দিনের অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন ৪৯৩ জন। ইন্দোনেশিয়া ও মালেশিয়া থেকে আসা পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৪৭২ ও ১৫০। থাইল্যান্ড থেকে এসেছিলেন ১৪২ জন। 

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখানেই থেকে থাকেনি কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই পাঁচটি দূরপাল্লার ট্রেনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রাথমিক দাবি এই পাঁচটি ট্রেনেই তাবলীগের জমায়েতে অংশ নেওয়া ভক্তজন দিল্লি ছেড়েছিলেন। সেই ট্রেন গুলি হল, গুন্টুরগামী দূরত্ন এক্সপ্রেস, চেন্নাইয়ের গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক এক্সপ্রেস, চেন্নাইগামী তামিলনাডু এক্সপ্রেস, নিউ দিল্লি - রাঁচি রাজধানী এক্সপ্রেস ও অন্ধ্রপ্রদেশগামী সম্পর্ক কান্তি এক্সপ্রেস।  ট্রেনগুলি ১৩-১৯ মার্চ-এর দিল্লি থেকে রওনা দিয়েছিল।প্রত্যেকটি ট্রেনেই ১০০০-১২০০০ যাত্রী ছিল।