করোনাভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমণ এড়াতে গোটা দেশের সঙ্গে লকডাউন হয়ে রয়েছে রাজধানী দিল্লিও। এই অবস্থায় দিশেহারা সমাজের গরিব মানুষরা। রোজগার না থাকায় খাবেন কী জানেন না কেউ। তবে লকডাউনের সময় একজন দিল্লিবাসীও না খেয়ে থাকবেন না, আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন এখন থেকে প্রতিদিন রাজধানীর ৪ লক্ষ মানুষকে খাওয়াবে আম আদমি পার্টির সরকার।

 

 

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনই সাংবাদিক বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী জানান, এদিন দিল্লি সরকার ২ লক্ষ গরিব মানুষের জন্য অন্নসংস্থান করেছে। শনিবার থেকে প্রতিদিন ৪ লক্ষ মানুষকে দুপুরে ও রাতের খাবার খাওয়াবে তারা। এরজন্য ৩২৫টি স্কুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এই স্কুলগুলিতে প্রতিদিন ৫০০ মানুষ দুঃস্থদের জন্য খাবারের যোগান দেবে।

লকডাউন মোকাবিলায় রেপো রেট কমাল আরবিআই, জনতাকে স্বস্তি দিয়ে মকুব হল ৩ মাসের ইএমআই

করোনা যুদ্ধে সামিল ভারতীয় রেল, ট্রেনের বগিতেই বানান হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন

করোনা শত্রুর বিরুদ্ধে নতুন অস্ত্র, নিউক্লিয়ার বাঙ্কার কাজে লাগাচ্ছে ইজরায়েল

বৃহস্পতিবার জন্য রাজধানীর ২২৪টি রাত্রিবাস কেন্দ্রে রাজধানীর দুঃস্থ মানুষদের জন্য থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। করোনা সংক্রমণ যাতে কোনওভাবেই তৃতীয় পর্যায়ে না পৌঁছয় সেজন্য আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভারতকে লকডাউন করে রাখা হচ্ছে। এদিন কেজরিওয়াল জানান দিল্লিতে এখনও পর্যন্ত ৩৯ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। এদের মধ্যে ২৯ জনই বিদেশ থেকে এসেছিলেন। বাকি ১০ জনের শরীরে বিদেশ ফেরতদের থেকেই সংক্রমণ ছড়ায়। এই অবস্থায় গোষ্ঠী সংক্রমণ এড়াতে সরকার সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি প্রতিদিন ১০০টি নতুন সংক্রমণের খবর আসলেও স্বাস্থ্যপরিষেবা দিতে অসুবিধা হবে না। 

সম্প্রতি ডঃ এসকে সারিনের নেতৃত্বে ৫ চিকিৎসকের একটি দল দিল্লি সরকারকে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তাতে প্রতিদিন নতুন করে ১০০ থেকে এক হাজার পর্যন্ত মানুষ করোনা সংক্রমণের শিকার হলে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা হবে সেকথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই রিপোর্টের কথা উল্লেখ করে কেজরি বলেন সব পরিস্থিতির জন্যই তৈরি রয়েছে তাঁর সরকার। তবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর আশা, পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। 

দিল্লিবাসীর পাশাপাশি তাঁর সরকার দিল্লিতে বসবাসকারী অন্যান্য রাজ্যের বাসিন্দাদেরও খেয়াল রাখছে বলে জানান কেজরিওয়াল। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দিল্লিতে আটকে পড়া এরাজ্যের শ্রমিকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করতে কেজরিওয়ালকে চিঠি দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যা।