বিশ্বে করোনা সংক্রমণের ঘটনা ৫ লক্ষের গণ্ডি ছুঁয়ে ফেলেছে। এদেশেও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে সংখ্যাটা। চিনে করোনা যাচ্ছ জিততে বড বড় স্টেডিয়ামকে কোয়ারেন্টাইন হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে এদেশের প্রশসানও। এরমধ্যেও করোনা যুদ্ধ জিততে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেল। ট্রেনের কামরাগুলিকে কোয়ারেন্টাইন হিসাবে বানানোর কাজ শুরু করেছে তারা।

দেশে যাতে গোষ্ঠী সংক্রমণ কোনওভাবেই না ছড়িয়ে পড়ে তা আটকাতে লকডাউন করা হয়েছে গোটা ভারতকে। বন্ধ বাস, গাড়ি, বিমান পরিষেবা। একইরকম ভাবে বন্ধ কেল পরিষেবাও। আপাতত আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন থাকবে গোটা দেশ। এই হিসাবে নিজেদের ট্রেনের কোচগুলিকে কোয়ারেন্টাইন বানিয়ে প্রশসানের পাশে দাঁড়াতে তৈরি হয়েছে ভারতীয় রেল।

রেলের উন্নতমানের কোতগুলিতেই কোয়ারেন্টাইন তৈরির জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে রেল কর্তারা এই সংক্রান্ত নির্দেশ পেয়ে গিয়েছেন। কী ভাবে এই কোয়ারেন্টাইন তৈরি  করা হবে, কেমন ডিজাইনের  হবে,  সেসব পাকা না হলেও চিন্তাভাবনা শুরু করে দিয়েছে রেল।  কোন জায়গায় এই কোচগুলিকে রাখা হবে, কোথা থেকেই বা তার বিদ্যুৎ সরাবরাহ  হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

আর প্রাণের ঝুঁকি নিতে হবে না চিকিৎসকদের, করোনা রোগীদের এবার চিকিৎসা করবে রোবট

গমগম করা ভিক্টোরিয়া যেন একেবারে ভুতুড়ে বাড়ি, খাঁ খাঁ করছে গোটা চত্বর, দেখুন ভিডিও

লকডাউন উপেক্ষা করে বেরিয়েছিলেন যুবক, চলে গেলেন একেবারে কুমিরের পেটে

দেশের এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিরলস সেবা দিয়ে চলেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। ট্রেনের বগিতে তাঁদের জন্যও থাকার ব্যবস্থা করতে চাইছে রেল। ইতিমধ্যে কোন কোন  স্টেশনে কোয়ারেন্টাইন কোচ রাখা হবে তা চূড়ান্ত করে ফেলেছে পশ্চিম রেল। প্রয়োজনে শহর থেকে দূরের এলাকাতেও এই কোয়ারেন্টাইন কোচগুলিকে পাঠান হবে। 

জানা যাচ্ছে, রেলের যে সব কোচ গুলিকে কোয়ারেন্টাইন বানানো হচ্ছে তাদের খাবার সরবরাহ করা হবে প্যান্ট্রি কারের মাধ্যমেই। সেকারণে  প্যান্ট্রি কারগুলিকে মোবাইল কিচেন বানানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। এই সব প্যান্ট্রি কার, যাঁরা কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন তাদের খাবারের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যও খাবার সরবরাহ করা হবে এখান থেকেই। বিভিন্ন স্টেশনে থাকা কোয়ারেন্টাইন কোচে খাবার পাঠানো হবে মোবাইল কিচেনের মাধ্যমে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে কী কী প্রয়োজন তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা চলছে বলে জানিয়েছেন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ভিকে যাদব। এখনও পর্যন্ত যা পরিকল্পনা তাতে ২০ হাজার কোচকে এই ভাবে কোয়ারেন্টাইন হিসাবে গড়ে তোলা হবে। আর প্রতিটি কোচে থাকতে পারবেন ৯ জন করে। প্রতি কোচে ন’টি লবি থাকে। প্রতিটি লবিতে ছ’টি করে বার্থ থাকে। এই এই এক একটি লবি হবে একটি করে থাকার জায়গা। এই হিসেবে একটি কোচে ন’জন আইসোলেশনে থাকতে পারবেন।