দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে নয় হাজারের গণ্ডি। এর মধ্যে একা রাজধানী দিল্লিতেই আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারের বেশি। দেশের মধ্যে করোনা সংক্রমণে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাজধানী। এখনও পর্যন্ত দিল্লিতে কোভিড ১৯ রোগের শিকার হয়ে প্রাণ গিয়েছে ২৪ জনের। এর মধ্যেই নতুন করে রাজধানীতে করোনা সংক্রমণের শিকার হলেন এক চিকিৎসক। 

দিল্লির এক বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ওই চিকিৎসকের করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। তবে শুধু তিনি নন আশঙ্কা বাড়িয়ে ওই হাসপাতালের এক নার্স ও আরেক চিকিৎসাকর্মীও মারণ ভাইরাসের সংক্রমণের শিকার হয়েছে। এর পরেই কোভিড ১৯ রোগীর সংস্পর্শে আসা হাসপাতালের ৩৯ জন কর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠান হয়েছে।
 

দক্ষিণ দিল্লির যে মুষ্টিমেয় বেসরকারি হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে তাদের মধ্যে অন্যতম ম্যাক্স হাসপাতাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, " একজন চিকিৎসক, একজন নার্স এবং আরেকজন সহযোগী চিকিৎসাকর্মীর করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তবে ওই চিকিৎসক হাসপাতালের বাইরেই সংক্রমণের শিকার হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।"



করোনায় ধুঁকছে ভারতের অর্থনীতি, ৩৫ শতাংশ বেতন কমিয়ে আশঙ্কা আরও বাড়াল দেশের নামী সংস্থা
লকডাউন না মেনে গঙ্গা ভ্রমণ বিদেশিদের, অতিথি বলে ছাড় না দিয়ে ৫০০ বার 'সরি' লেখাল পুলিশ
করোনার গ্রাসে প্রায় অর্দ্ধেক ভারত, দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৯ হাজারের গণ্ডি

আরেকটি বিবৃতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্কর্শে এসেছিলেন হাসপাতালে ৩০ জনেরও বেশি কর্মী। তাঁদের ইতিমধ্যে কোয়ারেন্টাইনে পাঠান হয়েছে। " কয়েকদন আগে কোভিড ১৯ পজিটিভ ২ ব্যক্তি কার্ডিয়াক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁদের সংস্পর্শে আসা হাসপাতালের ৩৯ জন কর্মীকে ইতিমধইযে সাকেটের ম্যাক্স হাসপাতালের আইসোলেশন উইং-এ পাঠান হয়েছে। কোয়ারেন্টাইনে থাকা ওই ব্যক্তিদের ১৪ তারিখ করোনা পরীক্ষা করা হবে।"

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, " সাকেটের ম্যাক্স হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডে ১৫৪ জন কর্মী রয়েছেন। এই কর্মীদের কারও শরীরেই ভাইরাস সংক্রমণ ছিল না। শিফটের ভিত্তিতে তারঁ কাজ করছেন, এবং পরিবার ও আত্মীয়দের যাতে সুরক্ষিত থাকেন সেই কারণে করোনা ওয়ার্ডের কর্মীরা হাসপাতালের ভেতরেই থাকছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে নেই।"

সূত্রের দাবি, সারা দেশে এখনও পর্যন্ত  করোনা সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ৪০ জন স্বাস্থ্যকর্মীও। এদের মধ্যে রয়েছেন চিকিৎসক এবং নার্সরাও। রোগীদের সামনে থেকে সেবা করতে হয় বলে চিকিরসক ও নার্সদের করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। 

গত মাসেই করোনা চিকিৎসকদের দেশের সৈনিকদের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পাশাপাশি দিল্লিতে কোনও চিকিৎসকের  করোনার আক্রান্তে সেবা করতে গিয়ে মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ১ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি কেন্দ্রও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ৫০ কোটি টাকা মেডিক্যাল বিমার কথা জানিয়েছে।