দেশে করোনা সংক্রমণের ঘটনা প্রতিদিনই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তা রেকর্ড করে ফেলল। শুক্রবার এদেশে কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হলেন ৪৭৮ জনয। যার ফলে ভারতে সরকারি ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২,৫৪৭। যদিও বেসরকারি ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ৩ হাজারের গণ্ডি। মৃতের সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ৮০। এই পরিস্থিতিতে দেশে লকডাউনের সময়সীমা বাড়বে বলেই দাবি করছেন একদল বিশেষজ্ঞ। আর তা বেড়ে একেবারে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ২১ দিনের লকডাউন চলছে সারা দেশে। যার মেয়াদ শেষ হবে ১৪ এপ্রিল। তবে সরকার লকডাউনের সময়সীমা আরও বাড়াতে চলেছে বলেই খবর আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। যদিও কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব রাজীব গৌবা সম্প্রতি এই খবরকে গুজব বলেই দাবি করেছেন। এর মধ্যেই সামনে এসেছে মার্কিন সংস্থা বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের একটি সমীক্ষা। যেখানে এদেশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লকডাউন চলতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারতের বিপুরল জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে।

লকডাউন মানছেন না বয়স্ক বাবা, আটকাতে এবার পুলিশে এফআইআর দায়ের ছেলের

নগ্ন হয়ে নার্সের কাছে দাবি করছেন বিড়ি, তবলিগ জামাতে অংশগ্রহণকারীর নিয়ে ফাঁপরে হাসপাতাল

বেলা বোস বাড়িতেই থেকো, সচেতনতা বাড়াতে এবার অঞ্জন দত্তের ভূমিকায় কলকাতা পুলিশ, ভাইরাল হল ভিডিও

ভারতের জনঘনত্বের কারণেই করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা এই মার্কিন সংস্থাটির। পাশাপাশি দেশের অনুন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কারণেই লকডাউন তুলে নেওয়া দ্রুত সম্ভব হবে না। তা অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। শুধু তাই নয়  বোস্টন কনসাল্টিং গ্রুপের একটি সমীক্ষা বলছে, যেভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে তাতে ভয়াবহ চেহারা নেবে মে থেকে জুনের মধ্যে। আর এদেশে জুনের তৃতীয় সপ্তাহে করোনার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি হবে।

গত ২৪ মার্চ ভারত সহ কলম্বিয়া, পোল্যান্ড, ব্রিটেনে লকডাউন শুরু হয়েছে। তবে ভারত ছাড়া বাকি দেশগুলিতে জুন থেকে জুলাইয়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে সমীক্ষা। তবে ভারতের ক্ষেত্রে তা বেড়ে হতে পারে সেপ্টেম্বর। তবে সমীক্ষা বলছে প্রশাসন যদি এর আগেই লকডাউন তুলতে চায়, সেক্ষেত্রেও মানুষের গৃহবন্দি দশা কাটবে না জুনের শেষ সপ্তাহের আগে। স্বাভাবিক ভাবেই এমন রিপোর্টে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।

এই প্রসঙ্গে  নিজেদের সমীক্ষায় চিনের হুবেই প্রদেশের কথা তুলে এনেছে সংস্থাটি। গত বছর ডিসেম্বর মাসে এই হুবেইতেই প্রথম মারণ করোনা সংক্রমমের খবর পাওয়া গিয়েছিল। এরপর গত জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ হুবেইকে লকডাউন করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই লকডাউন শেষ হতে চলেছে আগামী ৮ এপ্রিল। এর পাশাপাশি বিসিজির সমীক্ষা বলছে  ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো উন্নতশীল দেশগুলিতে আগস্ট মাস পর্যন্ত লকডাউন চলতে পারে।