ভারতে গত চারদিনে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা। এই অবস্থায় শুধু সরকারি পরিষেবায় করোনাভাইরাস-কে সামাল দেওয়া যাবে না। তাই বেসরকারী হাসপাতালগুলিতেও কোভিড -১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো শুরু হয়েছে। আর তারপরই একটা বড় প্রশ্ন উঠেছে, বেসরকারি পরিষেবায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ বা কোভিড-১৯ রোগের চিকিৎসার খরচ কত পড়বে? সকলেই বুঝতে পারছেন, সংক্রামিত রোগীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা এবং তার প্রস্তুতির জন্য যে ধরণের পরিকাঠামোর প্রয়োজন, তাতে বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করানোটা সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে চলেছে। কিন্তু, তার পরিমাণটা ঠিক কত?

মহামারী রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশ বেসরকারী হাসপাতালগুলিকে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কিন্তু, চিকিৎসার ব্যয়ের বিষয়টি কোথাও বেঁধে দেওয়া হয়নি। সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই করোনার চিকিৎসাকর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষামূলক পোশাক ও অন্যান্য সাজ সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেগুলির মূল্য রোগীদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে। ফলে সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে সুপারস্পেশালিটি বেসরকারি হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য কোনও ব্যক্তির দিনপ্রতি প্রায় ১১,০০০ টাকা করে পড়ছে, আর আইসিইউ-তে থাকলে লাগবে প্রতিদিন প্রায় ৫০,০০০ টাকা করে।


করোনাভাইরাস আসলে সরকারের চক্রান্ত, বিস্ফোরক পোস্ট করে শ্রীঘরে গেল যুবক

পলাতক মহিলার দেওয়া ঠিকানাও ভুয়ো, করোনা-জেহাদির ভয়ে সন্ত্রস্ত গোটা শহর

করোনা নিয়ে কেমন কাজ করছে বিজেপি, ৫ পয়েন্টের মার্কশিট তৈরি করে দিলেন মোদী

বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলির সাধারণ ওয়ার্ডের একটি বিছানার ভাড়া দিনপ্রতি গড়ে প্রায় ৪,০০০ টাকা। কোভিড-১৯-এর প্রতিরক্ষামূলক পোশাক ও সাজসরঞ্জামের জন্যই তা ১১,০০০ টাকায় পৌঁছেছে। এভাবে ১৪ দিন থাকতে হলে খরচ পড়ছে, ১,৫৪,০০০ টাকা। আর আইসিইউ-তে একেকদিনের বিছানার ভাড়া গড়ে প্রায় ২০,০০০ টাকা। আইসিইউতে নিযুক্ত চিকিত্সক কর্মীদের পিপিই এবং অন্যান্য ব্যয় ধরলে তা পৌঁছচ্ছে দিনে প্রায় ৫০,০০০ টাকায়। কাজেই ১৪ দিনের জন্য খরচ হবে ৭,০০,০০০ টাকা। এরসঙ্গে ভেন্টিলেটরের সাহায্য লাগলে ব্যয় আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

তবে বেসরকারি ছোট ছোট হাসপাতাল এবং নার্সিংহোমগুলি এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। একটি সাধারণ বেসরকারী হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে বাদবাকি খরচা নিয়ে দিনপ্রতি বেড ভাড়া পড়বে ৫০০০ টাকা করে। আর ভেন্টিলেটর-সহ একটি আইসিইউ বেডের খরচ পড়বে ১০,০০০ টাকা মতো। ফলে ১৪ দিনের জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড ও আইসিইউ-এর মোট খরচ হতে পারে যথাক্রমে ৭০,০০০ টাকা ও ১,৪০,০০০ টাকা।

এই অবস্থায় অনেকেরই দাবি বিশ্বব্যপী করোনাভাইরাস সংক্রমণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অত্যন্ত বিশেষ এক অবস্থা। এই রোগের ক্ষেত্রে অন্তত বেসরকারী হাসপাতালগুলিকে ব্যবসা করতে দেওয়া উটিত নয়। যেমন চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করেথে সরকার, সেইরকমভাবেই চিকিৎসার ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।