করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। সোমবার স্বাস্থ্য  মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িছে। একই ছবি মহারাষ্ট্রে। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্য ছবি কেরলে। সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের দেওয়া কেরলে নতুন করে আক্রান্তের কোনও খবর নেই। তবে রবিবার কেরল স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে নতুন করে আরও দুই জন আক্রান্ত হয়েছেন করোনভাইরাসের। তবে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২। কী করে সম্ভব হল?

 জনুয়ারি মাসে দেশে যখন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তখন থেকেই এই মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছিল কেরল। দেশের প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেরলের বাসিন্দা ছিলেন। গত ২৬ মার্চ যখন দেশ জুড়ে লকডাউন শুরু হয় তখনও আক্রান্তের সংখ্যায় প্রথম স্থানে ছিল কেরল। মহারাষ্ট্রের থেকে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে মার্চের শেষ ১০ দিনই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের পরিসংখ্যনে কেরলের নাম ছিল প্রথমে। তারপর যত দিন গড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ কমছে কেরলে। 

কেরল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে রীতিমত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের রেশন বন্টনের পাশাপাশি খোলা হয়েছিল কমিউনিটি কিচেন। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করায় রীতিমত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে পরিবার পরিজন ছাড়াও  কার কার সঙ্গে মেলামেশা করেছিল তাও খোঁজ নেওয়া হয়। পাশাপাশি সেই সব ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক পাঠান হয় আইসোলেশনে। বিদেশ থেকে ফেরা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার ওপর রীতিমত জোর দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের তরফ থেকে। 

কেরল প্রশাসনের তরফ থেকে জানান হয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে এপর্যন্ত ওই রাজ্যে করোনাভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭৫। যাদের মধ্যে ২৩৩ জনের বিদেশ ভ্রমণের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে  ৭ বিদেশী পর্যটকও। তাবলিগি জামাত বা নিজামুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ১৯ জনের। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এপর্যন্ত কেরলে সুস্থ হয়েছেন ১৭৯ জন।  মৃত্যু হয়েছে মাত্র ২ জনের। 

আরও পড়ুনঃ স্যানিটাইজারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে মৃত্যু ২ শ্রমিকের, মহারাষ্ট্রের রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ
আরও পড়ুনঃ লকডাউনের মধ্যেই এইচডিএফসির শেয়ার অধিগ্রহণ চিনের ব্যাঙ্কের, দেশের কর্পোরেট সংস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
আরও পড়ুনঃ এক মাসের সন্তান কোলে অফিসে মা, মাতৃত্বের সঙ্গে কর্তৃব্যের অপূর্ব মেলবন্ধন
রাজ্যের করোনাভাইরাসের হটস্টপগুলিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল প্রথম থেকেই। আক্রান্তের ৬৩ শতাংশ মানুষই কাশগড় বা কুন্নুরের বাসিন্দা। দুই জেলাতেই তৈরি করা হয়েছিল ক্লাস্টার। যা করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।  কেরল সরকার আরও জানিয়েছে এই দুই জেলার করোনায় আক্রান্ত ৯০ শতাংশ মানুষেরই দুবাই ভ্রমণের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে। তবে বাকি জেলাগুলির অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও প্রশাসনের সতর্ক নজর ছিল। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের গাউড লাইন সম্পূর্ণ মেনে চলা হয়েছিল। তবে এখনও কেরল বিপদ মুক্ত নয় বলেও প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এখনই করোনা যুদ্ধে হাল ছাড়তে রাজি নয় স্থানীয় প্রশাসন।