করোনাভাইসারে সংক্রমণ রুখতে গোটা দেশ জুড়েই চলছে লকডাউন। সামাজিক দূরত্ব সুনিশ্চিত করতে আর সংক্রণ রুখতে নিজেকে নিরাপদ ঘরবন্দি করে রেখেছে দেশের অধিকাংশ মানুষ। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের পরামর্শ শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্র যথেষ্ট যত্মবান হতে হবে। না হলেই সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। কিন্তু সেই ভয় উপেক্ষা করে নিজের এক মাসের শিশু সন্তানকে নিয়েই কাজে যোগ দিলেন অন্ধ্র প্রদেশের আইএএস অফিসার সৃজনা গুম্মাল্লা। । 

মাত্র এক মাস আসেই সন্তানের জন্ম দিয়েছেন সৃজনা। এই সময়টা তাঁর মাতৃত্বের ছুটি উপভোগ করার সময়। কারণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি তাঁর প্রাপ্য। কিন্তু নিজের ও সন্তানের জন্য দেশের কাছে স্বার্থপর হতে পারেননি সৃজনা। তাই দেশের এই চরম কঠিন সময় বাড়িতে বসে ছুটিতে না থেকেই যোগ দিয়েছেন কর্মক্ষেত্রে। অন্ধ্র প্রদেশের গ্রেটার বিশাখাপত্তনম মিউনিসিপালিটির শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকের দায়িত্বে রয়েছেন।  কর্তৃব্য পালন করতে এক মাসের সন্তান কোলেই হাজির হয়েছেন সৃজনা। কারণ করোনাভাইসারেসের সংক্রমণের সময় নিজের শিশুকে অন্য কারও কাছে রেখে স্বস্তিতে থাকতে পারবে না তিনি। তাই হয়তো নিজের দুধের সন্তানকে কোলে নিয়েই হাজির হয়েছেন অফিসে। তিনি জানিয়েছেন, মানুষ হিসেবে এই কঠিন সময় কাজে যোগ দেওয়াকেই তিনি তাঁর প্রথম ও প্রধান কর্তব্য বলে মনে করেছেন। কঠিন সময় সকলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা উচৎ বলে মনে করেকাজে যোগ দিয়েছেন তিনি।
 
আরও পড়ুনঃ Coronavirus India একালের 'সত্যবান', লকডাউনে ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী নিয়ে ১৩০ কিলোমিটার সাইকেলে
আরও পড়ুনঃ লকডাউনে ভাগ হতে পারে দেশ, লাল, কমলা আর সবুজ তিন রঙেই হবে করোনার পরিচয়
আরও পড়ুনঃ লকডাউনের মধ্যেই এইচডিএফসির শেয়ার অধিগ্রহণ চিনের ব্যাঙ্কের, দেশের কর্পোরেট সংস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ


কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত সোস্যাল মিডিয়াতেই তুলে ধরেছেন অন্ধ্র প্রদেশের আইএএস সৃজনার কথা। পাশাপাশি তাঁকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন।  কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কথায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য এমন সৈনিকদের কথা দেশের মানুষ দীর্ঘ দিন মনে রাখবেন। সন্তান কোলে নিজের কর্তৃব্য পালন করে এক অনন্য নজীর তৈরি করেছেন সৃজনা। 


বর্তমানে করোনাভাইরাসে সংক্রমণ কিছুটা হলেও উদ্বেগে ফেলেছে স্থানীয় প্রশাসনকে। ৪২৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। গোটা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৩০৮ জনের।