দেশের করোনা পরিস্থিতি ও তার মোকাবিলার কাজ কীভাবে চলছে তা পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সামনে দেশে করোনা ভাইরাসে রাজ্যভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক বিস্তারিত ছবি ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানানো হয় দেশের ১২টি রাজ্যে ১ লক্ষের বেশি সক্রিয় করোনা রোগী আছে। দেশের কোন কোন জেলায় করোনা সংক্রমণ একেবারে তুঙ্গে আছে তাও ভাল করে খতিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: ২ সপ্তাহের মধ্যে করোনা কাড়ল মা ও বোনের প্রাণ, শোকস্তব্ধ ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটার

বিভিন্ন রাজ্যে কীভাবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো কোন জায়গায় আছে তা পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও বাড়াতে রাজ্যগুলিকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। খুব দ্রুত ভাইরাস সংক্রমণ রোধে সবাইকে একযোগে কাজ করার কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দেন সেই সব জেলাগুলিকে চিহ্নিত করতে, যেখানে পজেটিভ কেসের হার ১০% বা তার বেশি। এবং হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ৬০%-র উপরে বা অক্সিজেন সাপোর্ট বা আইসি বেড ৬০ শতাংশের বেশি ভর্তি হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন: হোম আইসোলেশনে থাকা রোগিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন অক্সিজেনের জন্য, বিশেষ ঘোষণা রাজ্যের

দেশে ওষুধের জোগান ঠিক আছে কি না তাও খতিয়ে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।  'রেমডেসিভিয়ার' সহ নানা করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধের উৎপাদন বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আগামী কয়েক মাসে টিকাকরণের গতি কীভাবে বাড়াবো যাবে, কীভাবে বাড়ানো যাবে টিকা উৎপাদের পরিমানও সে বিষয়েও পর্যালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁকে বলা হয়েছে রাজ্যগুলিকে ১৭.৭ কোটি ভ্য়াকসিনের ডোজ দেওয়া হয়ে গিয়েছে। কোন রাজ্যে কতটা ভ্যাকসিন নষ্ট হয়েছে, সে বিষয়টিও দেখেন প্রধানমন্ত্রী। ৪৫ বছরের উর্ধ্বে ৩১ শতাংশ মানুষকে অন্তত একটি করোনার ডোজ দেওয়া হয়ে গিয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। কিছুতেই যাতে টিকাকরণের গতি কমে না আসে সে বিষয়েও খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন রাজ্যের লকডাউনের ফলে যাতে টিকাকরণের গতিকরণ কমে না আসে তা নজর দিতে বলা হয়েছে। টিকাকরণের সঙ্গে জড়িতদের যাতে অন্য কোনও ডিউটিতে পাঠিয়ে না দেওয়া হয় সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। 

কোভিড নিয়ে এই রিভিউ মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষ বর্ধন,কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল সহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও শীর্ষস্তরের আধিকারীকরা।

এক নজরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যেসব বিষয়ে পর্যালোচনা করেন

কোভিড-১৯-মোকাবিলা দেশের জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো পর্যালোচনা করেন

কোভিডে দেশের রাজ্য ও জেলাভিত্তিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন। 

স্বাস্থ্যপরিষেবা পরিকাঠামো বৃদ্ধির ওপর জোর দিলেন

দেশে ওষুধের জোগানের বিষয়ে পর্যালোচনা করলেন
দেশে টিকাকরণ নিয়ে পর্যালোচনা করলেন
টিকাকরণের গতি যাতে কিছুতেই কমে না আসে তা রাজ্যগুলিকে নজর রাখতে হবে