২১ দিনের লকডাউনে করোনাভাইরাস-কে ঠেকানো যায়নি। বাড়াতে হয়েছে সময়। কিন্তু, তারপরেও কতদিনে এই লড়াই জেতা যাবে, তা নিশ্চিত নয়। কারণ, শত্রুর শক্তি কতটা তাই এখনও পুরোটা বোঝা যাচ্ছে না। এদিকে ভারতে হু-হু করে বাড়তে শুরু করেছে রোগীর সংখ্যা। জুনের শুরুতে আর হাসপাতালে বেড দেওয়া যাবে কি না, তাই নিয়েই সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। এর জন্য একের পর এক বিকল্প কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি করা হচ্ছে। এই অবস্থায়, 'অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড' স্বাস্থ্য পরিষেবাকর্নমীদের হাতে তুলে দিতে চলেছে করোনা যুদ্ধের এক অভিনব অস্ত্র।

ভারতের যে কারখানাগুলিতে গোলাবারুদ, বন্দুক তৈরি হয়, সেই গানশেল ফ্যাক্টরিগুলির নিয়ন্ত্রক সংস্থায় হল এই অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ড। এমনি সময়ে এই বোর্ডের অধীনস্থ কারখানাগুলি, দেশকে সুরক্ষিত রাখতে, গোলাবারুদ বা বন্দুক তৈরি করে তুলে দেয় সেনাবাহিনীর হাতে। আর কোভিড-১৯ সংকটের সময় তারা করোনাভাইরাস, রোগীদের পরীক্ষা, তাদের পৃথকীকরণ এবং বিচ্ছিন্ন করে রাখা বা কোয়ারেন্টাইন করার জন্য একটি দুই শয্যা বিশিষ্ট বিশেষ তাঁবু তৈরি করল।

প্রায় ১০ বর্গমিটার আয়তনের এই তাঁবুটির আচ্ছাদন ওয়াটারপ্রুফ অর্থাৎ জলরোধী কাপড়ে তৈরি। আর কাঠামোটি গড়া হয়েছে ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামের মিশ্রণে। সহজেই যে কোনও জায়গায় বহন করে নিয়ে গিয়ে এই তাঁবু খাটিয়ে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই করোনাভাইরাস-এর রোগীদের পরীক্ষা এবং চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করে দেওয়া যায়। রোগ ধরা পড়লে এই তাঁবুগুলিতেই কোয়ারেন্টাইন বা বিচ্ছিন্ন করেও রাখা যাবে কোভিড-১৯ রোগীকে। ভেন্টিলেটরের দরকার পড়লে, পোর্টেবল ভেন্টিলেটরও এই তাঁবুতে ব্যবহার করা যাবে। দুটি শয্যা থাকায় একই সঙ্গে দুই রোগীকে এই তাঁবুতে রাখা যোবে।

ভারতের মতো গরীব এবং বিপুল জনসংখ্যার দেশে, করোনা-প্রতিরোধে এই তাঁবু যে দারুণ কার্যকর হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। ওডিবির কানপুরের কারকানায় এই তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে। এতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার খরচও অনেকটাই কম পড়বে, কিন্তু তাঁবুর বাইরে কোনওভাবেই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকবে না। এখনও পর্যন্ত এরকম ৫০টি তাঁবু পাঠানো হয়েছে অরুণাচল প্রদেশে।

নিউ ইয়র্কে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জন্য চিন দায়ি নয়, ইঙ্গিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমীক্ষায়

 

প্রাণীসম্পদ থেকে পোষ্য হল কুকুর, করোনাভাইরাস-এর জেরে চিনে বড়-সড় রদবদল

রোজ রাত আটটা বাজলেই দেশজুড়ে সবাই করছে ঘেউ ঘেউ, করোনাতঙ্কের আমেরিকায় হচ্ছেটা কী, দেখুন

শুধু এই অভিনব তাঁবুই নয়, অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির নাগপুরের কারখানায় স্যানিটাইজেশনের জন্য একটি ফিউমিগেশন চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে, যেগুললি বিভিন্ন হাসপাতাল, বাজার বা অন্যান্য জনসমাগমের জায়গায় ব্যবহার করা যেতে পারে। দেরাদুনের কারখানায় তৈরি হয়েছে প্যাডেল চালিত হাত ধোওয়ার ব্যবস্থা। এছাড়া সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ফেসমাস্ক ইত্যাদিও তৈরি করা হচ্ছে। ওএফবি'র অন্যান্য কারখানাতেও এখন গোলা-বন্দুক তৈরি ছেড়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিভিন্ন সংরঞ্জাম প্রস্তুত করা হচ্ছে।