এবার সরাসরি মোদী সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়ালো ভারতের প্রেস কাউন্সিল। ইতিমধ্যেই প্রিন্স চার্লস আয়ুর্বেদিক ওষুধে করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে, মিথ্য়া দাবি করে মন্ত্রকের মুখ পুড়িয়েছেন আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক। এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাধারণ মানুষকে আয়ুশ মন্ত্রকের প্রোটোকল অনুসরণ করার আহ্বান জানানোর তিনদিনের মধ্যেই, প্রেস কাউন্সিল (পিসিআই) ভারতের সব সংবাদপত্রগুলিকে কোভিড-১৯'এর চিকিৎসা সম্পর্কিত আয়ুষ মন্ত্রকের কোনও দাবি বা বিজ্ঞাপন না ছাপার পরামর্শ দিল।

সোমবার সরকারিভাবে এক বিবৃতি দিয়ে পিসিআই বলেছে, কোভিড-১৯ চিকিৎসার জন্য আয়ুষ সম্পর্কিত দাবির প্রচার করা ও বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করার পরামর্শ দিচ্ছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। দেশে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের হুমকি ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে আয়ুষ ড্রাগ এবং পরিষেবা সম্পর্কে এই দাবি ও বিজ্ঞাপনের প্রকাশ দেশে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়াচ্ছে বলে সাফ জানিয়েছেন  প্রেস কাউন্সিল।

'লকডাউনের সময় বেড়ে ৪ মে', তৈরি থাকুন মোদীর ভাইরাল স্ক্রিনশট-এর জন্য

পলাতক মহিলার দেওয়া ঠিকানাও ভুয়ো, করোনা-জেহাদির ভয়ে সন্ত্রস্ত গোটা শহর

করোনা নিয়ে কেমন কাজ করছে বিজেপি, ৫ পয়েন্টের মার্কশিট তৈরি করে দিলেন মোদী

মজার বিষয় হল, আয়ুশ মন্ত্রক-ও দিন কয়েক আগে এক নির্দেশিকা জারি করে বলেছিল, দেশবাসীর নিরাপত্তা বজায় রাকার জন্য এবং আয়ুর্দেদিক ওষুধ ও চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। নির্দেশিকাটি কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এবং প্রেস কাউন্সিলকেও পাঠানো হয়েছিল। এদিন মন্ত্রকের বিজ্ঞাপন ও দাবিই না ছাপার পরামর্শ দিল কাউন্সিল।

তবে, স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আয়ুষ মন্ত্রকের নির্দেশিকা-গুলি টুইট করেছেন, মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-ও টুইট করে নাগরিকদের আয়ুষ মন্ত্রকের নির্দেশিকাগুলিতে চোখ বোলানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। অন্যদের সঙ্গে শেয়ারও করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে নানা সময়েই বিবিন্ন উদ্ভট দাবি করে, ডাক্তার ও বিজ্ঞানীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছে আয়ুষ মন্ত্রক। সাম্প্রকিতিক নিদর্শন হল, দিন চারেক আগে আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক দাবি করেছিলেন, ইংল্যান্ডের কোভিড-১৯ আক্রান্ত যুবরাজ চার্লস নাকি বেঙ্গালুরুর এক আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের ওষুধে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু, পরে ব্রিটিশ রাজপরিবারের পক্ষ থেকে আয়ুষমন্ত্রীর সেই সম্পূর্ণ মিথ্য়া বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়। তার আগে আবার কোভিড-১৯ উপসর্গের লড়াইয়ের পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ছাড়াই, আর্সেনিকাম অ্যালাবাম নামে একটি হোমিওপাথি ওষুধ গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছিল এই মন্ত্রক। সেই সময়েও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল মন্ত্রক।