দেশে পর পর দুদিন ২ লক্ষ ছাড়িয়েছে নতুন করোনা সংক্রমণের সংখ্যা। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা। আর দ্বিতীয় তরঙ্গে উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি। তাই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দেশেজুড়ে অক্সিজেনের চাহিদাও। শুক্রবার সারা দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে মেডিকেল গ্রেডের অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই বিষয়ে একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর এর জন্য স্বাস্থ্য, ডিপিআইআইটি, ইস্পাত, সড়ক পরিবহন - এর মতো বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি।

দেশের মধ্যে করোনা পরিস্থিতি এই মুহূর্তে সবচেয়ে খারাপ ১২ টি রাজ্যে - মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, ছত্তিশগড়, কর্ণাটক, কেরল, তামিলনাড়ু, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থান। এই রাজ্যগুলিতে আগামী ১৪ দিনের অক্সিজেনের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী এই রাজ্যগুলিতে অক্সিজেন সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আগামী কয়েকদিনে চাহিদা কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে সেই সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। একেবারে জেলা পর্যায় পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে।

এই রাজ্যগুলির সঙ্গে এই বিষয়ে নিয়মিত যোগাযোগে রাখছে কেন্দ্র। ২০ এপ্রিল, ২৫ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল - এই তিনটি  দিন নির্ধারণ করা হয়েছে এই রাজ্যগুলি অক্সিজেন সরবরাহের জন্য। কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী এই তিন দিনে এই ১২ রাজ্যে অক্সিজেনের চাহিদা পৌঁছতে পারে যথাক্রমে ৪,৮৮০ মেট্রিকটন, ৫,৬১৯ মেট্রিকটন এবং ৬,৫৯৩ মেট্রিকটনে। সেই মতোই বরাদ্দ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে  সমন্বয় বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান অক্সিজেনের চাহিদা মেটাতে দেশের প্রতিটি অক্সিজেন প্লান্টের সামর্থ্য অনুযায়ী অক্সিজেন উত্পাদন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। ইস্পাত কারখানার উদ্বৃত্ত অক্সিজেন স্বাস্থ্য সংকট কাটাতে ব্যবহার করা যায় কিনা, এই বিষয়েও এদিন আলোচনা হয়েছে। সেইসঙ্গে সারাদেশে অক্সিজেন বহনকারী ট্যাঙ্কারগুলি যাতে নির্বিঘ্নে এবং অবাধে চলাফেরা করতে পারে তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি আধিকারিকদের।

আরও পড়ুন - একদফায় ভোটে নারাজ কমিশন - প্রচারে কাটছাঁট মানবেন না, সাফ জানালেন মমতা

আরও পড়ুন - ফের রাজ্যে রেকর্ড-ভাঙা করোনা সংক্রমণ, বেডের অভাব মেটাতে হোটেলের শরণাপন্ন হাসপাতাল

আরও পড়ুন - করোনার 'দেশি' রূপান্তরই কি আনল দ্বিতীয় তরঙ্গ, ডাবল মিউট্যান্ট নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

এদিনের পর্যালোচনার পর, অক্সিজেন ট্যাঙ্কারগুলির আন্তঃরাজ্য চলাচল সহজ করতে পারমিট রেজিস্ট্রেশন থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। এদিনের পর্যালোচনায় ঠিক হয়েছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার ভর্তি করা হয় যেসব কারখানায় সেই কারখানাগুলিকে প্রয়োজনীয় সুরক্ষার সঙ্গে ২৪ ঘন্টা কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে। শিল্পক্ষেত্রে যে অক্সিজেন ব্যবহার করা হয়, অক্সিজেন পরিশোধিত করে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে অক্সিজেন বহনকারী ট্যাঙ্কারের সম্ভাব্য ঘাটতি মেটাতে নাইট্রোজেন এবং আর্গন গ্যাসের ট্যাঙ্কারগুলিকে অক্সিজেন ট্যাঙ্কারে রূপান্তরিত করার অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি বাইরে থেকে মেডিকেল গ্রেডের অক্সিজেন আমদানিরও প্রচেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।