দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীরা সর্বদলীয় বৈঠকের দাবি জানাচ্ছিলেনঅবশেষে সেই বৈঠক ডাকল কেন্দ্র৮ এপ্রিল সকাল ১১টায় হবে ওই বৈঠকসেখানে কী নিয়ে আলোচনা হবে তাই নিয়ে চলছে জল্পনা

করোনাভাইরাস-এর প্রাদুর্ভাব ভারতে এসে পড়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিরোধীরা। অবশেষে ৮ এপ্রিল, অর্থাৎ লকডাউনের ১৫ দিনের মাথায় সেই সর্বদলীয় বৈঠক ডাকল কেন্দ্র। এদিন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী চিঠি দিয়ে, সংসদে পাঁচ বা তার বেশি সদস্য থাকা প্রত্যেকটি দলের নেতাদের বৈঠকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সামাজিক দূরত্ব এবং ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার বিষয় মাথায় রেখে এই সভাটি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে করা হবে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

করোনাভাইরাস মহামারী ভারতে ক্রমেই জাঁকিয়ে বসছে। এই সংক্রমণকে প্রতিহত করতে ২১ দিনের জন্য দেশে সম্পূর্ণ লকডাউন প্রোটোকল জারি করা হয়েছে। কিন্তু, তারপরেও কোনওভাবেই এই মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাস-কে ঠেকানো যাচ্ছে না। দিন দিন মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সংক্রমণের ভয়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে চলেছে অর্থনৈতিক সঙ্কটও। এই স্বাস্থ্য সঙ্কট থেকে ভারতের সমাজে ও অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী এবং সর্বনাশা প্রভাব ফেলতে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় সর্বদলীয় বৈঠক ডাকাটা অত্যন্ত দরকারি বলে মনে করা হচ্ছিল।

সরকারি আধিকারিকদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এই মারাত্মক ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস-এর ধাক্কা সামলাতে ভবিষ্যতের রোড ম্যাপ তৈরি করতে চাইছেন। সেই কারণেই এই বিষয়ে অন্যান্য দল কী ভাবছে, সেই বিষয়ে তাদের পরামর্শ নেবেন। ৮ তারিখ সকাল ১১টায় মোদীর উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শুরু হবে। সেই অংশে তিনি অংশগ্রহণকারী সব নেতাদের, এই পর্যন্ত করোনা প্রতিরোধে তাঁর সরকার যা যা পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বিশদে জানাবেন। তারপর অন্যান্যদের থেকে ভবিষ্যতে কোন পথে এগোন উচিত, সেই কথা জানতে চাওয়া হবে।

তবে, দেশে ইতিমধ্যেই অন্তত ১০টি জায়গা-কে করোনা-হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জায়গাগুলিতে হু-হু করে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই অনেকেই মনে করচেন, ভারতে লকডাউনের সময়সীমা সম্ভবত বাড়াতে হবে। প্রধানমন্ত্রী হয়তো অন্যান্য দলের নেতাদের সঙ্গে সেই সময়সীমা বাড়ানো যায় কিনা, বাড়ালে সাধারণ মানুষকে সেই সময়ে কীভাবে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়া যায়, তাই নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

অনেকে আবার মনে করছেন, লকডাউন-কে যেভাবে সব রাজনৈতিক দল সমর্থন করেচিল, তাতে দেশের প্রতিটি অংশের মানুষের কাছে বার্তা গিয়েছিল, করোনা মোকাবিলায় ভারতের সকলে রাজনৈতিক ব্যবধান ভুলে একসঙ্গে রয়েছেন। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী ৫ এপ্রিল মোমবাতি জ্বালার নির্দেশ দেওয়ার পর, তাকে 'মোদীর ছলনা' আক্ষা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী দলগুলি। সর্বদলীয় বৈঠকে কোভিড -১৯'এর বিরুদ্ধে ভারতের রাজতৈনিতভাবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই-এর জায়গাটা আবার ফিরিয়ে আনতে পারে।

এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারে পক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদী ছাড়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী এবং রাজ্যসভার নেতা, থাওয়ার চাঁদ গেহলট উপস্থিত থাকবেন।