প্রত্যেক ভারতীয় শিশুকেই জন্মের পরপরই ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গেরিন বা বিসিজি টিকা দেওয়া হয়। যক্ষ্মা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই ভারতে এই সার্বজনীন টিকাকরণ নীতি রয়েছে। আর এই সরকারি নীতিই মারাত্মক সংক্রামক করোনাভাইরাস বিরুদ্ধে লড়াইয়ে 'গেম-চেঞ্জার' হতে পারে, বলে মনে করছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। ইতালি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ তুলে ধরে, নিউইয়র্ক ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা এনওয়াইআইটি-র গবেষকরা দাবি করেছেন, করোনভাইরাস-এর তীব্রতা শৈশবে বিসিজি টিকাকরণের জাতীয় নীতির উপর নির্ভরশীল।

এখনও অবশ্য তাঁদের গবেষণা সম্পর্কে প্রতিবেদন মুদ্রিত হয়নি। তবে, এই গবেষক দলের প্রধান তথা এনওয়াইআইটি-র বায়োমেডিকাল সায়েন্সের সহকারী অধ্যাপক, গঞ্জালো ওতাজু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন,  তাঁদের গবেষণায় দেখা গিয়েছে ইতালি, নেদারল্যান্ডস, বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলিতে ভারতের মতো জন্মের পরপরই প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকাকরণের সরকারি নীতি নেই। আর এই দেশগুলিতেই করোনার প্রকোপ সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কিন্তু, ভারতের মতো সার্বজনীন এবং দীর্ঘকালীন বিসিজি টিকাকরণের নীতি যে দেশগুলিতে রয়েছে, সেইসব দেশে তুলনায় করোনার প্রকোপ অনেকটাই কম।

প্রসঙ্গত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২,৪৫,৩৭৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যারমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬,০৯৫ জনের। ইতালিতে সংখ্য়াটা যথাক্রমে ১,১৫,২৪২ এবং ১৩,৯১৫। আর নেদারল্যান্ডস-এ আক্রান্ত ১৪,৬৯৭ জন, মৃত ১৩৩৯।

এনওয়াইআইটি-র গবেষণা অনুসারে, আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা, দুইই কমিয়ে করোনভাইরাস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে বিসিজি ভ্যাকসিন। ভারতের সর্বজনীন টিকাকরণ কর্মসূচির অংশ হিসাবে জন্মের পরপরই সকল শিশুকে এই টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যক্ষা রোগী ছিল ভারতে। ১৯৪৮ সালেই এই বোঝা কমানোর লক্ষ্যে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল। এতে করে এই মুহূর্তে ভারতে যক্ষারোগ প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে বলা যায়।

আয়ুর্বেদিক ওষুধেই জব্দ করোনা, বেঙ্গালুরুর ডাক্তারের হাতে সুস্থ হলেন প্রিন্স চার্লস

লকডাউনের ফাঁকা রাস্তায় দু'পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে একটি গাছ, ভাইরাল হল ভিডিও, দেখুন

লকডাউন ছাড়াই করোনা-মুক্তির পথে, দক্ষিণ কোরিয়া পারলে ভারত কি পারে না

মার্কিন গবেষকদের এই আবিষ্কারে ভারতীয় সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী এবং উৎসাহিত ঠিকই, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এখনই তারা নিশ্চিত নন। তাঁদের মতে এখনই কিছু বলাটা বড্ড তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে। তাঁরা বলছেন এরকম অনেক ছোট ছোট জিনিসেই তাঁরা আশার আলো দেখছেন। তবে বিসিজি ভ্যাকসিন এর আগে সার্স সংক্রমণের বিরুদ্ধেও কার্যকর হিসাবে প্রমাণিত হয়েছিল। কোভিড-১৯ ও সার্স রোগের ভাইরাসদুটি একই করোনাভাইরাস পরিবারের সদস্য। তাই সার্স-কোভ'এর বিরুদ্ধে যে টিকা সফল হয়েছিল, সেই একই টিকা সার্স-কোভ-২ (কোভিড-১৯)-এর বিরুদ্ধে সফল হওয়ার প্রভুত সম্ভাবনা রয়েছে।