ভ্যাকসিন না নিয়েই করোনা আক্রান্ত হয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজের নিউবর্ণ কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরও ৩।  একদিকে সারা দেশজুড়ে যখন করোনার সঙ্গে লড়ছেন চিকিৎসকরা, কার্যত মানুষকে প্রাণে বাঁচাতে একমাত্র ভরসা তারাই। ঠিক তখনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলো মুর্শিদাবাদে।

আরও পড়ুন, কোভিডে একদিনে ৪ চিকিৎসকের মৃত্যু, উদ্বেগ বাড়ল স্বাস্থ্য দফতরের  


 শুক্রবার সন্ধ্যার পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন করনা আক্রান্ত হয়ে খোদ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বছর ছত্রিশের তরতাজা সিক নিউ ইউনিটের চিকিৎসক সন্দীপন মন্ডল। তারি মৃত্যুতে জেলার  চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা নেমে এসেছে। স্বামীর মৃত্যুর কথা শুনে তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রীতিমতো শোকে পাথর হয়ে গিয়েছেন। এমনকি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১ জন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক সহ আরও দু'জন জেনারেল ফিজিশিয়ান মিলিয়ে মোট তিনজন করেনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন, প্রায় ৬০ হাজার টাকার অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহে প্রতারণা, প্রশাসনের দ্বারস্থ সমাজসেবী 

ঘটনার পরই মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সুপার অমিও বেরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো ঘটনাই স্তম্ভিত হয়ে যান। আক্ষেপের সুরে জানান,'ভাবতেই পারছিনা সন্দীপন আর আমাদের মধ্যে নেই। শুধু তাই নয় ওকে বারবার ভ্যাকসিন নিতে বলেছিলাম। কিন্তু পরে নেব বলেছে। এমনকি ওর কোন ধরনের কো-মর্বিডিটিও ছিলনা।হয়তো সঠিক সময়ে ভ্যাকসিন নিলে আজ আমরা এই আমাদের তরুণ চিকিৎসক কে বাঁচাতে পারতাম। ও আমাদের সঙ্গে থাকলে আরও সাধারণ মানুষ চিকিৎসাও পেত। এই ক্ষতি অপূরণীয়।' 

আরও পড়ুন, কোভিডে লাফিয়ে বাড়ছে কালোবাজারি, শহরে ধৃত একাধিক, নয়া নাম্বার চালু করল কলকাতা পুলিশ  


বিশেষ সূত্র মারফত জানা যায়,করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বহরমপুরের কোর্ট স্টেশন সংলগ্ন একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই তার বিশেষ নজরদারির মধ্যে চিকিৎসা চলছিল। তার পরেও আর শেষ রক্ষা করা সম্ভব হলো না। এহেন নিউবর্ন কেয়ার ইউনিটের চিকিৎসক এর মৃত্যুর পরেই ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের সম্পাদক ডঃ কৌশিক চাকি এই ঘটনায় তার উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে বলেন,"এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু মর্মান্তিক ব্যাপার। আমরা চাই রাজ্য সরকার তার পরিবারের পাশে দাঁড়াক। আর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর এই মুহূর্তে দেখভালের দায়িত্ব নিক"।