প্রয়াত স্বামীর পেনশনেই সংসার চলে। সামান্য যেটুকু জমিয়েছিলেন, তার সবটাই করোনার ত্রাণ তহবিলে দান করে দিলেন হুগলির বলাগড়ের এক প্রৌঢ়। থানার ওসি ও জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতির হাতে তুলে দিলেন ৫০ হাজার টাকার চেক।

আরও পড়ুন: মানবিকতার নজির, করোনা মোকাবিলায় সরকারকে আর্থিক সাহায্য রায়গঞ্জের ব্যবসায়ীর

এলাকায় বিশিষ্ট সমাজসেবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। সরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন তিনি। তাঁর পেনশনের টাকাতেই এখন সংসার চলে অর্চনা মুখোপাধ্যায়ের।  আপদ-বিপদে কখন দরকার পড়বে, তা বলা যায় না! তাই নিজেও পঞ্চাশ হাজার জমিয়েছিলেন ওই প্রৌঢ়া। সোমবার সকালে বলাগড় থানার ওসি অর্ণব গঙ্গোপাধ্যায় ও জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুমনা সরকারকে বাড়িতে ডেকে পাঠান অর্চনাদেবী। তাঁদের মাধ্যমে করোনা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পঞ্চাশ হাজার দান করে দিলেন তিনি। অচর্না মুখোপাধ্যায় বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী যেদিন ঘোষণা করেছেন, সেদিন থেকে ত্রাণ তহবিলে টাকা দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। করোনা ভাইরাস যেভাবে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে, তাতে আমি খুবই উদ্বিগ্ন।' হুগলি জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুমনা সরকার আবার মুখোপাধ্যায় বাড়ির ঘনিষ্ট। তিনি বলেন, 'আমি বলাগড়েরই মেয়ে। কাকিমাকে দেখে গর্বে বুকটা ভরে উঠছে। উনি আমাদের কাছে আইকন হয়ে রইলেন। আশা করি. আরও অনেকেই এভাবে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দাঁড়াবেন।'

আরও পড়ুন: রাজ্যে করোনার বলি এবার কালিম্পঙের মহিলা, গোপন করেছিলেন বিদেশ ভ্রমণের তথ্য

উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০০ কোটি টাকা তহবিল গড়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু সেই তহবিল যে যথেষ্ট নয়, তা স্বীকার করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। রাজ্যবাসীর কাছে সাহায্য চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।  দিন কয়েক আগে সরকারি তহবিলে ২৫ লক্ষ টাকা দান করেছিলেন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের এক ব্যবসায়ী।