যতদিন যাচ্ছে, আর্থিক সংকট ততই তীব্র হচ্ছে। বন্ধ যানবাহন, মিলছে না পর্যাপ্ত খাবারও। ভিন রাজ্যে চিকিৎসা করাতে গিয়ে লকডাউনে আটকে পড়েছেন বীরভূমের অনেকেই। হোটেল কিংবা লজে বন্দিদশায় দিন কাটছে তাঁদের। উদ্বেগ বাড়ছে পরিজনদের।

আরও পড়ুন: আশি কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসে জুটল গরমভাত আর একটু বিশ্রাম

দক্ষিণ ভারতের ভেলোরে চিকিৎসা করাতে গিয়েছেন রামপুরহাটের বাসিন্দা, পেশায় আইনজীবী উৎপল চট্টোপাধ্যায়। ১৯ মার্চ স্ত্রী, মেয়ে ও জামাইকে নিয়ে ভেলোরে পৌঁছন তিনি। ফেরার কথা ছিল ২৬ মার্চ। কিন্ত লকডাউনের কারণে  যানবাহন, এমনকী উড়ানও বন্ধ হয়ে দিয়েছে। সপরিবারে একটি লজে আটকে পড়েছেন ওই আইনজীবী। উৎপল চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'দমবন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি। বাড়ি ফিরতে ইচ্ছা করছে। কিন্ত এমনই অবস্থা যে, কিছুই করার নেই। সরকার যদি ফেরার ব্যবস্থা করে, তাহলে খুবই উপকৃত হতাম।'একই অবস্থায় রামপুরহাটেরই সুমিত মণ্ডল ও তাঁর পরিবারের লোকেদেরও। 

লকডাউনের কারণে বাড়ি ফিরতে পারছেন না রামপুরহাট  তপন মণ্ডল, মল্লারপুরের শ্রীহরি ঘোষ, তারাপীঠের তারক মণ্ডলও তাঁর স্ত্রী রুমকিও। তাঁরা সকলেই অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছেন অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্তাপুর্তি শহরে। হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাঁইথিয়া সুশান্ত গড়াই ও নলহাটির সাবর্ণি গঙ্গোপাধ্যায়ও। ফেরার টিকিট কেটে রেখেও লাভ হয়নি, ট্রেন বাতিল হয়ে গিয়েছে।  সাবর্ণিবাবুর কথায়, 'যা টাকা এনেছিলাম, তা শেষের পথে। লজের ভাড়া দেওয়া আর কতদিন দিতে পারব জানি না। বাড়িতেও সকলেই চিন্তা করছে।' 

আরও পড়ুন: করোনা মারতে টিউবওয়েলে কীটনাশক, বাসন্তীতে হাতাহাতি, জানুন আসল সত্যি

সিউড়িতে থাকেন গোপাল চট্টোপাধ্যায়। পেশায় তিনি সাংবাদিক। চোখের অপারেশন করতে হায়দরাবাদে গিয়েছেন গোপাল। অপারেশন নির্বিঘ্নেই মিটেছে। কিন্তু লকডাউনের কারণে ফিরতে পারছেন না। তাঁর আক্ষেপ, 'নির্দিষ্ট দিনে ফিরতে পারলে ভালো হত। উদ্বেগে আছি।'