সমগ্র বিশ্বে মহামারির আকার ধারণ করছে নভেল করোনা ভাইরাস। এর থাবায় প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে আতঙ্ক, ঝুঁকি ও নিরাপত্তাহীনতা। করোনা নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭৯,০৮০ সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা ১৬,৫২৪। পাশাপাশি ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯৯ ও মৃতের সংখ্যা ১০।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক আক্রান্ত  হয়েছে ইতালিতে। সে দেশে নতুন করে চিকিৎসক-সহ আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩,৯২৭ ও মৃতের সংখ্যা ৬,০৭৭। বর্তমানে ইতালির পরিস্থিতির কথা সেই দেশ থাকা এক বাঙালি মহিলা পিংকি সরকার নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন। যিনি বর্তমানে ইতালিতেই রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন "ঠিক ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মাত্র দু-এক জনের করোনা আক্রান্তের খবর প্রথম শুনতে পেয়েছিলাম। তখনও ভাবিইনি এমন এক কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। ঠিক এক সপ্তাহের মধ্যে সংখ্যাটা বদলে যায় অনেকটাই। বন্ধ করা হয় স্কুল, কলেজ চালু হয় কোয়ারেন্টাইন। তখন আমরা ছুটির মেজাজে তখনও ভাবতেও পারিনি কী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে চলেছি আমরা। ঠিক এখন যেমন ভারতের অবস্থা।

আরও পড়ুন- করোনা সংক্রমণ থেকে কীভাবে দূরে থাকবেন, হাতের কাছে রাখুন এই চারটি জিনিস

এইভাবেই কাটলো আরও এক সপ্তাহ সংখ্যাটা ছুঁল প্রায় ৫০ হাজার। হাসপাতালে বেড নেই মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার মত। আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসকেরাও। সরকারের পক্ষ থেকে পুরোপুরি হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ। বাড়ির বাইরে বেড়োলেই ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। তবে চিন্তার বিষয় হল ভারতের মত ইতালি অত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা নয়। তাও এখানে কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বলে বর্তমানে মৃত্যুপুরী-তে পরিণত হয়েছে ইতালি। চিন্তার বিষয় এটাই ভারতের জনসংখ্যা ইতালির তুলনায় অনেক বেশি। এখনও যদি আপনারা সতর্ক না থাকেন তবে ইতালির থেকে খারাপ দিন দেখতে হতে পারে। সতর্ক হোন নিজেরা, শুধুমাত্র নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন তাহলেই অন্যরা সুরক্ষিত থাকবে।

চিন্তার বিষয় আমি এই দেশে আছি, আমার বাব-মা, আত্মীয় বন্ধুরা সব রয়েছে সে দেশে। তাই খুব চিন্তায় আছি। বর্তমানে সারা দেশ যার বিরুদ্ধে লড়াই করছে সেই ভাইরাসটিকে চোখে দেখা যায় না। অথচ দরজার হাতল, বাইরে থেকে আসা জুতো, জামা যে কোনও ভাবে একবার  আপনার শরীরের সংস্পর্শে এসে গেলে আর রক্ষে নেই। তাই বাইরে থেকে এসে সেই জামা কাপড় খুলে ফেলুন। সরকারের কথা মেনে কটা দিন ঘরের মধ্যেই থাকুন। অ্যালকোহল বেসড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। হোম কোয়ারেন্টাইন কোনও ছুটি কাটানোর জন্য সরকার আপনাকে দেয়নি। দেশের একজন দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে এই দায়িত্ব আপনারও, ফোনে আত্মিয়দের বোঝান।" ইতালির মত ভারতের অবস্থা হতে দেবেন না। তাহলে ইতালির থেকেও খারাপ পরিস্থিতি হবে আমাদের।