বিশ্ব জুড়ে যে গতিতে বেড়ে চলেছে করোনা সংক্রমণ তাকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তা নিয়ে দিশেহারা সব মহলই। পরিস্থিতি দিন যত এগোচ্ছে ততই জটিল হচ্ছে। বর্তমানে গোটা দুনিয়ায় সংক্রমণের ঘটনা ১১ লক্ষকে ছাড়িয়ে গিয়েছে আর মৃত্যুর সংখ্যা এবার পৌঁছে গেছে ষাট হাজারের ঘরে। এর মধ্যেই আরও এক আশঙ্কার কথা শোনাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'। সবসনময় নিজেকে বদলে চলেছে করোনাভাইরাস। আর সেই পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে যুব সমাজও আর নিরাপদ নয় এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে।

এতদিন দেখা যাচ্ছিল বিশ্বে বয়স্ক ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছেন মারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের। ষাটোর্দ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হার। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে দেখা যাচ্ছে চিন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশে যারা মারা যাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই অল্প বয়সী। তিরিশ, চল্লিশ এবং পঞ্চাশের কোঠায় থাকা ব্যক্তিরা আর নিরাপদ নন এই মারণ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে।

ধারাভি নিয়ে ক্রমেই গাঢ় হচ্ছে চিন্তার ভাজ, মহারাষ্ট্রে করোনা সংক্রমণ ছাড়িয়ে গেল ৫০০ গণ্ডি

জুনে পরিস্থিতি হবে সবচেয়ে খারাপ, সমীক্ষা বলছে লকডাউন চলতে পারে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

মৃত্যু মিছিলে ইতালিকে পিছনে ফেলল আমেরিকা, মারণ করোনা একদিনে প্রাণ কাড়ল ১,৪৮০ জনের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 'হু'-র টেকনিক্যাল প্রধান মারিয়া ভান কেরখোভ জানিয়েছেন, " আমরা দেখতে পাচ্ছি বর্তমান সময়ে খুব বেশি করে অল্প বয়সীরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ধীরে ধীরে আইসিইউতে সংখ্যা বাড়ছে তাঁদের। কিছু কিছু দেশে তিরিশ, চল্লিশ এবং পঞ্চাশের কোঠায় বয়স থাকা ব্যক্তিরা মারা যাচ্ছেন রোগটিতে।"

বয়সে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কোভিড ১৯ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার জন্য একদিকে যেমন করোনাভাইরাসের প্রতিনিয়ত বদলকে দায়ি করছেন 'হু'-এর বিশেষজ্ঞরা, তেমনি যুব সমাজের মধ্যে সচেতনতার  অভাবের বিষয়টিও তুলছেন তাঁরা। 

'হু'-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিচেল রায়ান এবিষয়ে মনে করছেন, যুব সমাজের মধ্যে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে যে তাঁদের উপর এই রোগের তেমন প্রভাব পড়বে না। সেই কারণেই বিষয়টিকে হালকা ভাবে নিচ্ছেন তাঁরা। আর তার ফল ভোগাও এখন শুরু হয়ে গিয়েছে। 

পরিসংখ্যান বলছে দক্ষিণ কোরিয়ায় মৃতদের মধ্যে প্রতি ৬ জনের একজেনর বয়স ষাটের নিচে। গত  ৫ থেকে ৬ সপ্তাহে দেখা যাচ্ছে ইতালিতে ইনটেনসিভ কেয়ারে থারা রোগীদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশের বয়স পঞ্চাশের নিচে। তাই বয়স্কদের মধ্যে করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকলেও বর্তমান সময়ে অল্প বয়সীরাও যে আর নিরাপদ নন সেই তথ্যই উঠে আসছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে।