বরবারই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজের বন্ধু বলে সম্বোধন করে এসেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ট্রাম্পের দেশই এখন মহা বিপদে। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের বাস এখন মার্কিন মুলুকে। আক্রান্তের সংখ্যা চার লক্ষ থেকে দৌঁড়চ্ছে পাঁচ লক্ষের দিকে। পরিস্থিতি সামল দিতে একেবারে হিমশিম অবস্থা মার্কিন প্রশাসনের। আর এই সময়ই দেবদূতের মত বন্ধুর সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন এদেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ট্রাম্পের আবদার মেনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে আমেরিকায় হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন পাঠাচ্ছে ভারত সরকার। আর তাতেই ফের মোদী বন্দনা শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

নিজের ট্যুইটারে ট্রাম্প লিখেছেন, "এই ভয়ঙ্কর বিপদের সময়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। ধন্যবাদ ভারত ও ভারতের জনগণকে। আমেরিকা এই উপকার ভুলে যাবে না। প্রধানমন্ত্রী মোদী করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু নিজের দেশ ভারতের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তাই নয়, বিশ্ব মানবতাকে সহায়তা করেছেন। এই দৃঢ় নেতৃত্বের জন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানাই। "

 

 

ট্রাম্প এখন মোদীকে মহান বলে আখ্যায়িত করলেও ২দিন আগেও অবশ্য পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন না পাঠালে বন্ধু মোদীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ভারত ওষুধ পাঠাচ্ছে জানতে পেরেই নিজের সুর বদল করে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই পরিস্থিতিতে কূটনীতিকদের একাংশ বলছে হুঁশিয়ারিতে কাজ হাওয়াতেই ট্রাম্পের এই মোদীর বন্দনা। আমেরিকার চাপে ম্যালেরিয়ার ওষুধে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া নিয়ে মোদীকেও কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন অনেকেই।

করোনার ২০টি হটস্পট সিল করা হল রাজধানীতে, মাস্ক পড়া আবশ্যক করল প্রশাসন

এক বছরের জন্য বেতনে কোপ মন্ত্রীদের, করোনা মোকাবিলায় কড়া সিদ্ধান্ত যোগী আদিত্যনাথের

আমেরিকায় রক্ষে পাচ্ছেন না বসবাসরত ভারতীয়রাও, দেশটিতে মৃত্যু মিছিল ৬০ হাজার ছাড়ানোর আশঙ্কা

এর মাঝেই ট্রাম্পের করা ট্যুইটের উত্তর দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। মোদী লেখেন, "আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একমত। এই  কঠিন সময়েই বন্ধুদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। ভারতী-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেই আমি আশাবদি। কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানবতাকে বাঁচাতে ভারত যথাসম্ভব চেষ্টা করবে। আমরা একসঙ্গে এই লড়াই জিতব।"

 

 

এদিকে ট্রাম্প সেদেশের সংবাদ মাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, ভারত থেকে ২ কোটি ৯০ লক্ষ হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন আসছে আমেরিকায়। এমন আশ্বাসবাণীই তাকে দিয়েছেন বন্ধু মোদী। ইতিমধ্যে গুজরাতের তিনটি কারখানা থেকে জাহাজ বোঝাই সেই ওষুধ পাড়ি দিয়েছে আমেরিকার উদ্দেশে।