মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই তাঁকে দু’বার হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। অপারেশন এপিক ফিউরি এবং খামেনেইর মৃত্যুর পর ট্রাম্পের এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য এবং অতীতের হত্যাচেষ্টার ষড়যন্ত্র নিয়ে বিস্তারিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, ইরানের সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলী খামেনেই তাঁকে অন্তত দু’বার হত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, খামেনেই সফল হওয়ার আগেই তিনি তাঁকে ধরে ফেলেন এবং পাল্টা আঘাত হানেন। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
খামেনেইকে হত্যার প্রেক্ষাপট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে একটি যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, যা 'অপারেশন এপিক ফিউরি' নামে পরিচিত। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা 'রেজিম চেঞ্জ'। ১ মার্চ ইরানের সরকারি গণমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করে যে, তেহরানে খামেনেইর বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পরপরই ট্রাম্পের এমন মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
হত্যার চেষ্টার অভিযোগ ও ট্রাম্পের পাল্টা চাল
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তারা (ইরান) আমাকে মারার জন্য দু’বার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমি আগে আঘাত করেছি”। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত ২০২৪ সালে তাঁকে হত্যার জন্য ইরানের একাধিক ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের নভেম্বরে মার্কিন বিচার বিভাগ ফারহাদ শাকেরি নামক এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। শাকেরি ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর হয়ে কাজ করতেন এবং নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে হত্যার ছক কষেছিলেন। এছাড়া আগস্ট ২০২৪-এ আসিফ মার্চেন্ট নামে এক পাকিস্তানি নাগরিককেও গ্রেফতার করা হয়েছিল, যিনি ট্রাম্পসহ একাধিক মার্কিন কর্মকর্তাকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি নিয়োগের চেষ্টা করেছিলেন।
প্রতিশোধের রাজনীতি
ইরান কেন ট্রাম্পকে টার্গেট করেছিল, তার উত্তর লুকিয়ে আছে ২০২০ সালের এক ঘটনায়। ওই বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশে ড্রোন হামলায় ইরানের প্রভাবশালী জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহত হন। খামেনেই তখন থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের “কঠোর প্রতিশোধ” নেওয়ার শপথ নিয়েছিলেন]। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছিল যে, ইরান সোলেইমানি হত্যার বদলা নিতে ট্রাম্পসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালাতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতি
খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানে বর্তমানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি চলছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে যে আলোচনার মাধ্যমে পারমাণবিক চুক্তি সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ার পরই তারা এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক মন্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, তিনি ইরানের আক্রমণাত্মক মনোভাবের বিরুদ্ধে “প্রতিরোধমূলক আক্রমণ” বা প্রিম্পটিভ স্ট্রাইকের নীতি গ্রহণ করেছিলেন।


