মার্কিন সংস্থা ফাইজার ও জার্মান সংস্থা বায়োএনটেক'এর তৈরি ভ্যাকসিন ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ, শুক্রবার এমনটাই জানালো ব্রিটেনের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তারা জানিয়েছেন এই বিষয়ে 'কঠোর পর্যালোচনা' করার পরই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর আগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ফাইজার ও বায়োএনটেক'এর ভ্যাকসিন প্রয়োগের বিষয়ে একই মূল্যায়ন করেছিল।

ব্রিটেনের ওষুধ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা সম্পর্কিত পণ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রধান জুন রেইন বলেছেন, 'আমরা ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সের শিশুদের ক্লিনিকাল ট্রায়াল-এর তথ্য অত্যন্ত সতর্কভাবে পর্যালোচনা করেছি এবং তার ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ফাইজার-বায়োএনটেক'এর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন এই বয়সগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ এবং কার্যকর।' তিনি আরও জানিয়েছেন, ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই ভ্যাকসিনের যে যে ঝুঁকি রয়েছে, তার তুলনায় সুবিধার অংশটা অনেক বেশি।

তবে এখনই ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের গণ টিকাকরণ কর্মসূচির আওতায় আসবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের টিকা এবং টিকাকরণ সম্পর্কিত যৌথ কমিটির হাতেই ছেড়ে দিয়েছে ব্রিটেনের ওষুধ এবং স্বাস্থ্যপরিষেবা পণ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে তারা একবার ছাড় দেওয়ার পর, যৌথ কমিটি আর বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, করোনার তৃতীয় তরঙ্গ আসা অবশ্যম্ভাবী বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর সেই তরঙ্গের অভিঘাত বেশি পড়বে ১৮ বছরের নিচে থাকা শিশু-কিশোরদের উপরই। তাই তৃতীয় তরঙ্গ আসার আগেই শিশু-কিশোরদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে গোটা বিশ্বেই কাজ চলছে।

ভারতও বসে নেই। বৃহস্পতিবার থেকেই পাটনার এইমস হাসপাতালে আইসিএমআর-এর সহায়তায় ভারত বায়োটেক-এর তৈরি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন, 'কোভাক্সিন'-এর পেডিয়াট্রিক ট্রায়াল অর্থাৎ শিশুদের উপর পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে। গত ১১ মে তারিখে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সম্মতি দিয়েছিল ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া বা ডিসিজিআই (DCGI)।