হঠাতই ফোন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টেরভারতে করোনা টিকা পাঠাচ্ছে আমেরিকাকথার পরই টুইট প্রধানমন্ত্রী মোদীরকী কথা হল কমলা হ্যারিসের সঙ্গে 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টেলিফোনে বেশ খানিকক্ষণ কথা হয়েছে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। এক সরকারি সূত্রের মারফত এমনটাই জানা গিয়েছে। ওই শীর্ষস্থানীয় সূত্র আরও দাবি করেছে যে ফোনটি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টই করেছিলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী করেননি। পরে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জানানো হয় প্রথমে যে আড়াই কোটি ভ্য়াকসিন বিশ্বে বন্টনের পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা, সেই বিষয়েই নরেন্দ্র মোদীকে অবগত করেন কমলা। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও এদিন তিনি একই বিষয়ে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট অ্যান্দ্রে মানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর, গুয়াতেমালার প্রেসিডেন্ট আলেহান্দ্রো গিয়ামাত্তেই এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগো'র প্রধানমন্ত্রী কিথ রাউলির সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

আমেরিকার অধিকাংশ জনগণ দুটি করে ভ্যাকসিনের ডোজ পেয়ে গিয়েছেন। তারপর তাদের হাতে আরও ৭৫ শতাংশ অতিরিক্ত করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের ডোজ অতিরিক্ত মজুত রয়েছে। এই অতিরিক্ত ডোজগুলিই বাইডেন প্রশাসন বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে। তারই প্রথম অংশ হিসাবে আড়াই কোটি ডোজ বন্টন করা হবে হাতে গোনা কয়েকটি দেশের মধ্যে। তারমধ্যে ভারত যে অন্যতম তা বলাই বাহুল্য। সরকারি ভাবে আমেরিকার পক্ষ থেকে এখনও কিছু না বলা হলেও, বাকি দেশগুলি যে, কমলা হ্যারিস এদিন যে যে রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেই দেশগুলি, তা সহজেই বোঝা যাচ্ছে। বাইডেন প্রশাসন রাষ্ট্রসংঘের কোভ্যাক্স প্রকল্পের মাধ্যমেও অতিরিক্ত টিকা বন্টন করার কথা ভাবছে।

Scroll to load tweet…

এদিন কমলা হ্যারিসের সঙ্গে কথোপকথনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদী টুইট করে জানান, বিশ্বের সঙ্গে ভ্যাকসিন ভাগ করে নেওয়ার মার্কিন পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ভারতে ভ্যাকসিন সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন কমলা হ্যারিস। ভারতীয়দের প্রচতি এই সমর্থন এবং সংহতি প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রী, মার্কিন সরকার, ব্যবসায়িক মহল এবং প্রবাসীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। টিকার আশ্বাস ছাড়াও ভারত-মার্কিন ভ্যাকসিন সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং কোভিড পরবর্তী বিশ্বে স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভারত-মার্কিন অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়েও দুই পক্ষের আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

গত মাসেই বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর মার্কিন সফরে গিয়েছিলেন। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় মন্ত্রীর পা পড়েছিল মার্কিন মুলুকে। দুই দিনের সফরে জয়শঙ্কর মার্কিন বিদেশ সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, জাতীয় সুরক্ষা উপদেষ্টা, বাণিজ্য প্রতিনিধি এবং গোয়েন্দা বিভাগের ডিরেক্টরের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন। বাইডেন প্রশাসনের প্রায় এক ডজন বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী। জয়শঙ্কর খোলামেলাভাবেই বলেছিলেন, এইসব শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কোভিড-১৯ মহামারির মোকাবিলা এবং ভ্যাকসিন।