বিশিষ্ট মার্কিন লেখক নিকোলাস ওয়েড সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে লিখেছেন, কোনও একটি পরীক্ষাগারে করোনা ভাইরাস তৈরি হয়েছে- পরীক্ষাগারে তৈরি হওয়া ভাইরাসের সমস্ত বৈশিষ্ট কোভিড১৯ এর মধ্যে বর্তমান। তবে অত্যন্ত সংবেদনশীল লেখক হওয়ার কারণে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন - গোটা বিশ্বে কী করে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরাজিত হয়েছিল আর ট্রাম্প বিরোধী মার্কিন মিডিয়ায় নীরব রইল।একই সঙ্গে তিনি আঙুল তুলেছেন দ্বিধাবিভক্ত মার্কিন রাজনীতি কেমন করে অপরাধীকে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করল। যদিও এখন ধীরে ধীরে সামনে আসছে সেই সব তথ্য। 


এক তরফা ভালোবাসা  
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনাদের মধ্যে পর্দার আড়ালের কথোপকথন কী হতে পার তা - ওয়েড  কল্পনা করেছিলেন।তিনি বলেছিলেন,'এই গবেষণা অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে। ' পাল্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল 'দেখে মনে হচ্ছে আপনি এটি এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু এই আলোচনাটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি।' ওয়েড বলেছেন সেই সময় ট্রাম্প  ডক্টর ফৌসিকে দিয়ে করোনাভাইরাসের মোকাবিলা করাচ্ছিলেন। কিন্তু এখন বিডেন রয়েছেন মার্কিন নেতৃত্বে। আর সেই কারণেই শি ঝেঙলির দুষ্ট কাজকে অর্থদিতে বাধা দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু চিন এখনও এই বিষয় অর্থায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 


ভাইরাস দমন বিশেষজ্ঞরা 
নজর দেওয়া দরকার বিজ্ঞানী গিল্ডে। উহানকে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে উৎস হিসেবে চিহ্নিত করার সময় একদল ভাইরোলজিস্ট ও অন্যারা ল্যানসেটে  ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি লিখেছিলেন 'আমরা ষড়যন্ত্রের প্রাদুর্ভাবকে তীব্রভাবে নিন্দা করছি। কোভিড ১৯-এর প্রাকৃতিক কোনও উৎস নেই। ' পাশাপাশি অন্য বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন করোনাভাইরাস বন্যপ্রাণী থেকে তৈরি হয়েছে। ল্যানসেটের রিপোর্টের তীব্র সমালোচনা করে ওয়েড বলেছেন প্রথমই একদল বিজ্ঞানী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন এটি দুর্ঘটনার করাণে ছড়িয়ে পড়েছে। কোনও ষড়যন্ত্র নয়। কী কারণে এই ঘটনা তা অবশ্যই আগে অধ্যায়ন করা জরুরি ছিল। বিজ্ঞানীদের এই দ্বিধাবিভক্ত মনোভাবে গোটা বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নিতে পারে এটা আগে কেউ কল্পনা করেননি। একই সঙ্গে এই রোগের বিরুদ্ধ লড়াই করার জন্য তাঁরা ফ্রন্ট লাইন চিনা  সহকর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ওয়েড বলেছেন করোনাভাইরাসের উৎপত্তি কী করে হয়েছিল তা দ্রুত নির্ণয় করা হয়েছে। আর সেই কারণেই বিশ্ব মতামতের ওপর তা বিশাল প্রভাব পড়েছে। 


মার্কিন রাজনৈতি কী করবে 
২০২০ সালের নেচার মেডিসিন জার্নালে ভাইরাসরবিদদের একটি লেখায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল করোনাভাইরাস পরীক্ষাগারে নির্মিত নয়। পরবর্তী অংশে বলা হয়েছিল ল্যাব থেকে এটি চালিত হওয়া অসম্ভব। তার উত্তর দিতে গিয়ে ওয়েড নিশানা করেছেন ভাইরোলজিস্টদের। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হেরফের
ভাইরাসটির নাম করণে প্রাকৃতিক বিবর্তনের তত্ত্বটি বাধ্যবাধকতার সঙ্গে যুক্ত। এটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল তা নির্ণয় করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি কমিশন তৈরি করেছিল। কমিশনের প্রধান ছিলেন পিচার দাশাক। যিনি চিন সফরের আগে ও পরে ভাইরাসটি ল্যাবে তৈরি হয়নি বলেও জোর দিয়েছিলেন। ওয়েড আরও বলেছেন দাশাক উহান ল্যাবে আগে থেকেই লগ্নি করে রেখেছিল। যদি তার টাকা করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণায় লগ্নি হয়ে থাকে তবেও তিনিও একজন অপরাধী। প্রথমে ভাইরাসটি যে প্রকৃতিতে থেকে তৈরি হয়েছিল তেমন কোনও তথ্য চিনাদের কাছেও ছিল না। তবে ওয়েড গোটা বিষয়টি গোপন করার জন্য চিনকে দায়ি করেছেন। তাঁর কথায় ভাইরাস মোকাবিলার তুলনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিনের পাশে দাঁড়ানোকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে ভাইরাসের উৎস নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচারের বন্ধ করার ওপর জোর দিয়েছেন। সাংবাদিকের কথা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে উহানের গবেষণাগারে লোকচক্ষুর অন্তরাতে চিন বিপজ্জনক খেলা খেলে চলেছে। 

বিভক্ত মার্কিন নাগরিক রাজনীতি নীরব মিডিয়া 
করোনাভাইরাস ল্যাব থেকেই তৈরি হয়েছে- এই ইস্যুতে প্রথম সারির মার্কিন মিডিয়া প্রায় নীরব ছিল। যদিও প্রথমে মিডিয়ার পছন্দ ছিল এটি প্রকৃতি থেকে তৈরি হয়েছিল। মার্কিন মিডিয়ার এই নীরবতার দুটি কারণ তুলে ধরেছেন ওয়েড। তিনি বলেছেন, একই হল ভাইরোলজিস্টদের মতামত আর দ্বিতীয় কারণ হল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতা। কারণ প্রথম থেকেই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করোনাভাইরাসকে উহান ভাইরাস  বা চিনা ভাইরাস বলে কটাক্ষ করেছিলেন। বেশিরভাগ মিডিয়ায় সেই সময় গোটা বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং লাগাতেই ব্যস্ত ছিল। অধিকাংশ মিডিয়া রিপোর্টে কোভিড ভাইরাসের উত্থান তদন্তে জোর দেওয়া হয়নি। কোভিড নিয়ে রাজনৈতিক বিভাজন অনেকটাই চুপ করিয়ে দিয়েছিল সংবাদ মাধ্যমকে। 

উহান-চিনা সেনার যোগসূত্র 
করোনাভাইরাস ল্যাব থেকে বেরিয়েছে- এই কথাটাই শুধুমাত্র তিনি বলেছেন। তবে তার পিছনে কোনও অশুভ শক্তি কাজ করেছে কিনা তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। অস্ট্রেলিয়া আর ব্রাজিলের দাবি করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণায় ভাইরোলজিস্টদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল চিনা সেনার। যদিও ২০২১ সালের জানুয়ারির একটি প্রচিবেদনে মার্কিন সিক্রেট মিলেটারি একটি ফ্যাক্ট শিটে সন্দেহ প্রকাশ করেছে এটি চিনের ল্যাবেই তৈরি হয়েছিল। আর ২০১৭সাল থেকেই গবেষণা শুরু হয়েছিল। 

বিশ্ব ও চিন 
করোনাভাইরাসের ব্যপক প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্বে। অর্থনীতি থেকে মানবতা- সবেতেই প্রভাব পড়েছে। বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইন প্রভাবিত হয়েছে। বর্তমান সময় অধিকাংশ দেশই জাতীয় অর্থনীতির ওপর জোর দিচ্ছে। 

মার্কিন চিন রাজনীতি 
চিন নিয়ে দ্বিমত রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরেই। বিডেন প্রথম থেকেই বলেছিলেন ল্যাব থেকে এটি  ছড়িয়ে পড়েছে- তখন বেশিরভাগই তা উপেক্ষা করেছিল। একই কথা বলছেন ফৌসি। বর্তমানে বাইডেন প্রশাসন গোয়েন্দাদের  ৯০ দিন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কোভিড নিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য । এখন অপেক্ষা করার আসল সত্যি কি প্রকাশ করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। 

ওয়েডে মনে করলেন, উহানের ল্যাব থেকেই ছড়িয়ে পড়েছিল করোনাভাইরাস। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে তিনি সহমত পোষণ করেননি।