উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় মানুষ ও পোষা প্রাণীর বন্ধনের এক আবেগঘন ও অনন্য দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। একটি পরিবার কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে যেরকম শোক পালন করা হয় সেইরকমই শোক পালন করেছে।

উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় মানুষ ও পোষা প্রাণীর বন্ধনের এক আবেগঘন ও অনন্য দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। একটি পরিবার কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে যেরকম শোক পালন করা হয় সেইরকমই শোক পালন করেছে। কুকুরের আত্মার শান্তির জন্য যজ্ঞের সামনে তার একটি বড় ছবি রাখা হয়েছিল এবং ১৩ জন ব্রাহ্মণকে ভোজ করানো হয় ও দান-দক্ষিণা দেওয়া হয়। এই পুরো ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

কী হয়েছিল টাইগারের

জানা যায়, 'তিলকধারী টাইগার' নামের কুকুরটি গত ২৮ জানুয়ারি অসুস্থতার কারণে মারা যায়। এরপর পরিবারটি বুলন্দশহরের রাজঘাটে পূর্ণ ধর্মীয় রীতি মেনে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করে। তেরো দিন পর, রবিবার তার তেরো দিনের অনুষ্ঠান (তেরোশুদ্ধি) আয়োজন করা হয়। কুকুরের মৃত্যুতে পুরো পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। পরিবারের সদস্যরা জানান, টাইগার শুধু একটি পোষা প্রাণী ছিল না, বরং গত ১৪ বছর ধরে পরিবারের ছেলের মতোই তাদের সঙ্গে বসবাস করছিল।

আগ্রার শাহদারা বাগ এলাকার বাসিন্দা ঘনশ্যাম দীক্ষিত জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে তিনি দিল্লি থেকে একটি ল্যাব্রাডর রিট্রিভার কুকুর এনেছিলেন, যার নাম রেখেছিলেন টাইগার। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টাইগার পরিবারের এমন একটি অংশ হয়ে উঠেছিল যে তার অনুপস্থিতিতে বাড়িটি অসম্পূর্ণ লাগত। প্রায় এক মাস আগে টাইগারের শরীর হঠাৎ খারাপ হতে শুরু করে। সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেয়। পরিবার তার চিকিৎসারও ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু ২৮ জানুয়ারি সে অসুস্থতার কারণে মারা যায়।

Scroll to load tweet…

শোকে পাথর পরিবার

ঘনশ্যাম দীক্ষিত জানান, টাইগারের মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে দুই দিন কিছু খায়নি। তার শবদেহ সম্মানের সঙ্গে সাজানো হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের মতে, টাইগার পাড়ায় বেশ জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর খবর শুনে পাড়ার বাসিন্দারা ছুটে আসেন। এরপর তার দেহকে পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে সাজিয়ে পাড়ার মধ্যে দিয়ে একটি শোকযাত্রা বের করা হয়। পরে বুলন্দশহরের রাজঘাটে তার সৎকার করা হয়। এছাড়াও, পরিবারের সদস্যরা শোকের প্রতীক হিসেবে মুণ্ডন অনুষ্ঠানও করেন। এরপর তেরো দিনের অশৌচ পালন করা হয় এবং আত্মার শান্তির জন্য যজ্ঞ করা হয়। ব্রহ্মভোজের জন্য তেরো জন ব্রাহ্মণকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

ঘনশ্যাম দীক্ষিত জানান যে, প্রতি দিন কপালে তিলক পরানো হতো বলে প্রতিবেশীরা টাইগারকে ভালবেসে 'তিলকধারী' বলে ডাকত। তিনি আরও জানান যে, টাইগারের বিশ্বস্ততা, সারল্য এবং স্নেহ প্রতিটি পরিবারের সদস্যের স্মৃতিতে আজও গভীরভাবে গেঁথে আছে। কুকুরটির চলে যাওয়ার পর বাড়িতে এক গভীর শূন্যতা অনুভূত হচ্ছে।