এই ৩টি তহবিল নিয়ে লোকসভায় কোনও আলোচনা আর প্রশ্ন 'নয়', PMOর চিঠি লোকসভার সচিবালয়ে
PMO News: সংসদে তিনটি তহবিল নিয়ে কোনও আলোচনা করা যাবে না। প্রশ্নও তোলা যাবে না। তিনটি তহবিলের নাম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংসদের সচিবালয়কে চিঠি লিখেছে। কারণও উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে।

লোকসভায় প্রশ্ন নয়
দেশের তিনটি তহবিল নিয়ে সংসদে কোনও রকম প্রশ্ন তোলা যাবে না। লোকসভার সচিবালয়কে তেমনই জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা PMo। সেই তহবিলগুলি হল পিএম কেয়ার্স ফান্ড (PM CARES), প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) ও জাতীয় সামরিক তহবিল (NDF)।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চিঠি
ইন্ডিয়ার এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই মর্মে গত ৩০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী সবিচালয় থেকে লোকসভার সচিবালয়ে একটি চিঠি পাঠান হয়েছে। সেথানেই তিনটি তহবিল নিয়ে লোকসভায় কোনও রকম আলোচনা করা যাবে না বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে লোকসভার কার্যবিধির অনুচ্ছেদ ৪১(২)(৮) ও ৪১(১৭) নম্বর ধারার।
PM CARES তহবিল
কোভিড ১৯ এর প্রাদুর্ভাবের পর ২০২০ সালে ২৭ মার্চ PM CARES ফান্ড গঠন করা হয়েছিল। কোভিড ১৯এর মহামারি সহ যে কোনও রকম জরুরি বা দুর্দশাগ্রস্ত পরিস্থিতি মোকাবিলার লক্ষ্যে এই তহবিল গঠন করেছিল মোদী সরকার। এটি একটি পাবলিক চ্যারিটেবল স্ট্রাস্ট হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। ২০২৩ সালের মার্চেই এটি সম্পূর্ণ হিসেব দিয়েছিল। সেই সময়ে এটিতে ছিল ৬২৮৩.৭ কোটি টাকা।
PMNRF ফাণ্ড
পাকিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সহায়তা করার জন্য জনসাধারণের অনুদানের মাধ্যমে ১৯৪৮ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে এর সম্পদগুলি মূলত বন্যা, ঘূর্ণিঝড় এবং ভূমিকম্প ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিহতদের পরিবার এবং বড় দুর্ঘটনা ও দাঙ্গার শিকারদের তাৎক্ষণিক ত্রাণ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়।
NDF তহবিল
জাতীয় প্রতিরক্ষা তহবিল (এনডিএফ) সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের, আধাসামরিক বাহিনী সহ, এবং তাদের নির্ভরশীলদের কল্যাণের জন্য ব্যবহৃত হয়। তহবিলটি একটি নির্বাহী কমিটি দ্বারা পরিচালিত হয়, যার চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী এবং সদস্য হলেন প্রতিরক্ষা, অর্থ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা, এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে।
আলোচনা না করার কারণ
প্রতিবেদন অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর সবিচালয়ের তরফে লোকসভায় জানান হয়েছে তহবিলগুলিতে জনগণ স্বেচ্ছায় অর্থ দেয়। সরকারের সঞ্চিত তহবিল থেকে এই তহবিলগুলিতে কোনও অর্থ মঞ্জুর করা হয়নি। তাই অন্য তহবিলগুলির মতো এই তহবিলগুলি নিয়ে সংসদে আলোচনা করা যাবে না।
অবস্থানে অনড়় কেন্দ্র
কেন্দ্র সরকার আদালতে ধারাবাহিকভাবে এই অবস্থান বজায় রেখেছে যে, পিএম কেয়ার্স তহবিলটি সংবিধানের অধীনে প্রতিষ্ঠিত নয় এবং কোনো সংসদীয় আইন দ্বারাও এটি পরিচালিত হয় না। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে দিল্লি হাইকোর্টে দাখিল করা হলফনামায় সরকার যুক্তি দিয়েছিল যে, এই তহবিলটি সংবিধানের ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ‘রাষ্ট্রীয় সংস্থা’ নয় এবং তথ্য জানার অধিকার আইনের অধীনেও এটি কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য হওয়ার যোগ্য নয়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়
সুপ্রিম কোর্টও রায় দিয়েছে যে, পিএম কেয়ার্স তহবিলটি জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া তহবিল থেকে আলাদা এবং আদালত কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলকে দিয়ে এর নিরীক্ষার নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে।
বিরোধীদের বার্তা
যদিও এই মর্মে এখনও পর্যন্ত বিরোধীদের তরফে কিছু জানান হয়নি। আজ থেকে ফের সংসদে শুরু হচ্ছে বাজেট অধিবেশন। সেখানে সংসদে না উপস্থিতি হওয়ার জন্য বিরোধীরা চড়া সুরে আক্রমণ করছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
বর্তমানে বিদেশ সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অন্যদিকে সংসদে যাতে তিনি দ্রুত উপস্থিত হন তারও দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা

