রবিবার গোটা পাকিস্তানের চোখ ছিল ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের দিকে। পাকিস্তানের টুইটারে ট্রেন্ড ছিল 'জয় হিন্দ'। ভারত জিতলে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হতো তাদের। কিন্তু তা না হওয়ায় আপাতত ইংল্যান্ডের ১০ পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছে। নিউজিল্যান্ড ম্যাচ তারা জিতে গেলে পাকিস্তানের আর কোনও সম্ভাবনা থাকবে না। স্বাভাবিকভাবেই তাই পাক জনতা ভারতের পরাজয়ে বেশ হতাশ। এমনকী প্রাক্তন পাক পেসার ওয়াকার ইউনিসও তার বাইরে বের হতে পারেননি। ম্যাচের পরই তিনি ভারতের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে অখেলোয়াড়োচিত মনোভাবের অভিযোগ করেন।

ধোনি ও কেদার যাদবের ব্য়াটিং-এর সমালোচনা হয়েছে ভারত থেকেই। আফগান ম্য়াচেইর পরই সচিন তেন্ডুলকর ধোনির ব্য়াটে ইচ্ছাশক্তির অভাবের অভিযোগ করেছিলেন। ইংল্যান্ড ম্য়াচের পর সৌরভ-সহ আরও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার তাতে যোগ দেন। এই ফাঁকে ওয়াকার ইউনিস সম্ভবত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে সেনসেশন তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

তিনি সরাসরি কোনো দল বা খেলোয়াড়ের নাম করেননি। টুইটারে বলেন, পাকিস্তান সেমিফাইনালে উঠতে পারবে কি না তাই নিয়ে তাঁর বিশেষ মাথাব্যথা নেই। তবে তিনি একটা বিষয়ে নিশ্চিত, কিছু চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার খেলোয়াড়োচিত মানসিকতার পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন।

ওয়কার নাম না করলেও তাঁর ইঙ্গিত যে ভারতীয় দল ও ভারতীয় দলের ক্রিকেটারদের দিকেই ছিল তা বুঝে নিতে রকেট-বিজ্ঞান জানতে হয় না। স্বাভাবিকভাবেই প্রাক্তন পাক অধিনায়কের এই টুইট মানতে পারেননি ভারতীয় সমর্থকেরা। একের পর এক টুইট জবাবে ওয়াকারকে প্রায় ধুয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

কেউ বলেছেন, অন্য দলের ওপর ভরসা না করে পারলে নিজেদের ক্ষমতায় সেমিফাইনালে উঠুক পাকিস্তান। কেউ ওয়াকারকে নিজেদের খেলায় উন্নতির দিকে মন দিতে পরামর্শ দিয়েছেন। কেউ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সোশ্য়াল মিডিয়ায় বাজার গরম না করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আইসিসিকে সরাসরি জানাতে।  আর আরেকজন মনে করিয়ে দিয়েছেন ওয়াসিম আক্রম জানিয়েছিলেন অনিল কুম্বলের ইনিংসে ১০ উইকেট পাওয়া আটকাতে ওয়াকার নিজেই ইচ্ছাকৃতভাবে রান আউট হতে চেয়েছিলেন।

শুধু ভারতীয়রাই নন, অন্যান্য দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এমনকী পাকিস্তানিরাও ওয়াকারের মতো একজন বড় মাপের ক্রিকেটারের এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।