আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে শনিবার বোলাররাই জিতিয়েছেন ভারতকে। বিশেষ করে মহম্মদ শামির শেষ ওভারে হ্যাটট্রিকই জয়ের ঠিকানায় পৌঁছে দেয় বিরাট-বাহিনীকে। আর তারপর থেকেই ক্রিকেট বিশ্বে শামি-বন্দনা চলছে। তবে শামির এই হ্যাট-ট্রিকের পিছবনে আরেকটি মাথা ছিল বলেও মনে করা হচ্ছে। তিনি হলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। বিশেষ করে হ্যাটট্রিক ডেলিভারিটির আগেই শামির সঙ্গে ধোনিকে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। তাতেই জল্পনা বেড়েছে। এই ব্যাপারে বাংলার পেসার নিজে কী জানালেন?

মহম্মদ শামি জানিয়েছেন তাঁর মনের দ্বিধা দূর করে দিয়েছিলেন ধোনি। ৪০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ফেরার পর সাংবাদিকদের শামি জানিয়েছেন, হ্যাটট্রিক হলটা ইয়র্কার দেবেন বলেই ঠিক করেছিলেন তিনি। তবে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে মনে অন্য ভাবনাও চলছিল। ধোনিই তাঁকে বলেন, বিশ্বকাপে হ্য়াটট্রিক করা এক বিরল ঘটা। সামির সামনে যখন সেই সুযোগ রয়েছে, তখন বাড়তি কিছু করার দরকার নেই। শামিকে ধোনি ইয়র্কার বলই করতে বলেন। আর সেটাই নিখুঁত পারদর্শিতায় করে দেখান তিনি।

আর তাতেই '৮৭-এর বিশ্বকাপে চেতন চৌহানের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে হ্য়াটট্রিক করার কৃতিত্বের অধিকারী হলেন মহম্মদ শামি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই নিয়ে দশমবার হ্য়াটট্রিক হল।

তবে প্রথম একাদশে সুযোগ পাওয়ার পিছনে ভাগ্যের হাতই দেখছেন শামি। ভুবনেশ্বর কুমারের বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিং পেশিতে টান না ধরলে এই ম্যাচে সম্ভবত খেলাই হত না তাঁর। বাংলার পেসার জানান, তিনি অবশ্য আগে থেকেই তৈরি ছিলেন, সুযোগ পেলে তাকে কাজে লাগানোর জন্য়। তা করতে পারায় তিনি অত্যন্ত খুশি তিনি। সুয়োগটা এমনভাবে তিনি কাজে লাগালেন, যে ভুবির পক্ষেই এখন দলে ঢোকা সমস্যার হয়ে যেতে পারে।

হ্যাটট্রিক করে মাঠে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও সাংবাদিকদের সামনে আসতে আসতে ফের তাকে নিয়ন্ত্রণ করে নেন বাংলার জোরে বোলার। তিনি জানেন বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিকের কৃতিত্ব খুব বেশি বোলারের ঝুলিতে নেই। তাই এই বিরল কীর্তির অংশ হওয়াটা তাঁকে আনন্দ দিয়েছে। ব্যাস এছাড়া বাড়তি কোনও উচ্ছ্বাস তাঁর মধ্যে দেখা যায়নি।