আগামী ৩০ মে তারিখ থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস-এ শুরু হতে চলেছে আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯। দীর্ঘ টালবাহানার পর ক্রিকেটের এই সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতার জন্য ১৫ সদস্যের ভারতীয় দল ঘোষণা করেছে বিসিসিআই। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের চার নম্বর ব্যাটসম্যানের জায়গার দৌড়ে থাকা আম্বাতি রায়ডু তাঁর জায়গা ধরে রাখতে পারেননি। দলে জায়গা হয়নি সম্ভাবনাময় তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ঋষভ পন্থেরও।

১৫ জনের দলের মধ্যে ৭ জন - বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান, এমএস ধোনি, ভুবনেশ্বর কুমার, মহম্মদ শামি ও রবীন্দ্র জাদেজা, ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের দলেও ছিলেন। কাজেই বলা যেতে পারে ভারতের বিশ্বকাপের দলে অভিজ্ঞতার অভাব নেই। একই সঙ্গে দল এমনভাবেই বাছা হয়েছে যাতে, বিশ্বকাপে যে কোনও পরিস্থিতিতে খেলার মতো ক্রিকেটারের অভাব না হয়।

ইনিংসের গোড়াপত্তনকারী শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার মধ্যে কেউ ব্যর্থ হলে বা চোট পেলে ব্যাক-আপ ওপেনার হিসেবে রয়েছেন কেএল রাহুল। যিনি প্রয়োজনে মাঝের ওভারেও খেলতে পারেন। মহেন্দ্র সিং ধোনির বদলি হিসেবে রয়েছেন দীনেশ কার্তিক। তিনিও প্রয়োজনে শুধু মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার ক্ষমতা রাখেন।

রায়ডুর বদলে বিজয় শঙ্করকে নেওয়াই হয়েছে 'ত্রিমাত্রিক' ক্রিকেট খেলার বৈশিষ্টের জন্য। নির্বাচকরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অন্তত প্রথম কয়েকটি ম্যাচ চার নম্বরেই ব্য়াট করবেন বিজয়। তিনি যদি ব্যর্থ হন তবে অন্য কথা ভাবা হবে। বিজয়ের অন্তর্ভুক্তিতে একই সঙ্গে দলে দুই জোরে বোলার অলরাউন্ডারের উপস্থিতি কোহলির দলের বোলিং বিকল্প অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

রায়ডু এবং পন্থের বাদ পড়া নিয়ে বেশ হইচই হয়েছে। অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটারই এই দুই ক্রিকেটারের বিশেষ করে পন্থের পক্ষে ব্য়াট ধরেছেন। রায়ডু নিজেও ব্যাঙ্গাত্মক টুইটে নির্বাচকদের প্রতি তাঁর হতাশা ব্যক্ত করেছেন। ২০১৮ সালটা চার নম্বরে ব্য়াট করে ভালোই গিয়েছিল তাঁর। কিন্তু তীরে এসে তরী ডোবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের ভয়াবহ ফর্মে। শুধু এই একটি সিরিজেই নয়, এই বছর বিদেশের মাটিতেও তাঁর দুর্বলতা ধরা পড়েছে। গত বছর ১০ ইনিংসে যেখানে তাঁর গড় ছিল ৫৬ সেখানে এই বছর সমসংখ্যক ইনিংসে গড় নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৮।

পন্থের ক্ষেত্রে নির্বাচকরা জানিয়েছেন ব্য়াটিং-এ অনভিজ্ঞতা ও উইকেটরক্ষক হিসেবে এখনও খামতি থাকাই তাঁকে পিছিয়ে দিয়েছে। ব্য়াক আপ ওপেনার হিসেবে দৌড়ে ছিলেন আজিঙ্কা রাহানেও। কেএল রাহুল যে দারুণ কিছু পারফর্ম করেছেন তা নয়, কিন্তু স্ট্রাইক রেট ও ব্য়াটিং অ্যাপ্রোচ-এ এগিয়ে থাকার দৌলতে তিনিই বাজিমাত করেছেন।

এবার আসা যাক বোলিং বিভাগের আলোচনায়। ইংল্যান্ডের মাঠে সাধারণত সিমাররাই সাহায্য পান, কিন্তু ভারত প্রত্যাশিতভাবে তিন জোরে বোলার ও দুই স্পিনার নিয়েছে দলে। বুমরা, শামি, ও ভুবনেশ্বরের মধ্য়ে অন্তত দুইজন তো প্রতিটি ম্যাচে খেলবেনই। বাকি কাজটা হার্দিক ও বিজয় শঙ্কর মিলে করে দিতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

চতুর্থ জোরে বোলারের দৌড়ে থাকা উমেশ যাদব, খলিল আহমেদ, মহম্মদ সিরা সিদ্ধার্থ কল, শর্দিল ঠাকুরদের কেউই নিজের জায়গা পাকা করার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি। পাশাপাশি স্পিনার অলরাউন্ডার হিসেবে রবীন্দ্র জাদেজা যখনই সুযোগ পেয়েছেন দলের জন্য অবদান রেখেছেন। সেই সঙ্গে তাঁর ফিল্ডিং-এর কথাও আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিজয় শঙ্কর। আর সেই কারণেই চতুর্থ পেসার রাখা হয়নি দলে।
তবে দলের সঙ্গে বেসরকারি ভাবে খলিল আহমেদ ও নভদীপ সাইনি ব্যাত-আপ জোরে বোলার হিসেবে থাকবেন। প্রধান তিনজনের কেউ হটাৎ চোট পেলে তাঁদের সুযোগ আসতে পারে।

রবীন্দ্র জাদেজা ১৫ জনের দলে থাকলেও ১১ জনের দলে তাঁর সুযোগ পাওয়া কঠিন। নিঃসন্দেহে কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহালই প্রধান দুই স্পিনারের ভূমিকায় থাকবেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী ভারত এক বিশেষজ্ঞ স্পিনার খেলালে প্রাধান্য পাবেন চায়নাম্যান। কেদার যাদব থাকবেন তৃতীয় স্পিনারের ভুমিকায়।

ভারতের থিঙ্ক ট্যাঙ্কের হাতে কিন্তু এই মুহূর্তে প্রথম দলে অন্তত ৭ জন বোলিং বিকল্প রয়েছে। কিন্তু খচখচানি রয়েছে ব্য়াটিং বিভাগেই। রান করার জন্য রোহিত-শিখর-কোহলি ত্রিমূর্তীর উপর প্রধান ভরসা। সাম্প্রতিককালে মিডল অর্ডারকে বারবারই চাপের মুখে ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছে। রায়ডুর জায়গায় সুযোগ পাওয়া বিজয়ের ভূমিকা কিন্তু মহা গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে।

শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পরাজয় সত্ত্বেও, ভারতের এই দলের কাছ থেকে কিন্তু অন্তত ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া উচিত।

ভারতের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপের দল:

বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা (সহঅধিনায়ক), শিখর ধাওয়ান, কেএল রাহুল, বিজয় শঙ্কর, মহেন্দ্র সিং ধোনি (উইকেটরক্ষক), কেদার যাদব, দীনেশ কার্তিক, যুজবেন্দ্র চাহাল, কুলদীপ যাদব, ভুবনেশ্বর কুমার, যশপ্রীত বুমরাহ, হার্দিক পাণ্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা এবং মহম্মদ শামি।