সাত উইকেট পড়ার পর শোয়েব আখতার টুইট করলেন 'স্পিচলেস'। ভাষা হারিয়ে ফেলার মতোই ব্যাট করল পাকিস্তান। প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন রাসেল। তবে শুধু তিনিই নন, প্রত্যেক ক্যারিবিয়ান বোলাররাই দুর্দান্ত বল করলেন। থমাস নিলেন ৪ উইকেট, হোল্ডার ৩, রাসেল ২টি ও কটরেল ১টি উইকেট নিলেন। একের পর এক পাকিস্তানি ব্য়াটসম্য়ান আত্মসমর্পন করলেন শর্ট বলের সামনে। একজনও ২৫ রানও পার করে পারেননি। নিটফল ২১.৪ ওভারে  মাত্র ১০৫ রানেই গুটিয়ে গেল পাক ইনিংস।

এই বারের বিশ্বকাপে রিস্ট স্পিনাররা খুব বড় ভূমিকা নেবেন - বিশ্বকাপের আগে যাবতীয় আলোচনা ছিল এই নিয়েই। এইবারের বিশ্বকাপের ১০ দলের মধ্যে ওয়েস্টইন্ডিজই একমাত্র দল যাদের হাতে সেই অর্থে বড় মাপের স্পিনার নেই। বস্তুত , স্পিন বোলিং-এ কোনও দিনই ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব একটা ভরসা রাখে না। এই বারও যে তার দরকার হবে না প্রথম ম্য়াচেই বুঝিয়ে দিলেন তাঁরা।

পরিকল্পনা বলতে ছিল, শুধু শর্ট বল করা। আর সেই সরল পরিকল্পনা এতটা নিখুঁতভাবে রূপায়ণ করলেন ক্যারিবিয়ানরা, যে পুরো উড়ে গেল পাক ব্যাটিং। ১০ জনেরর মধ্যে  জনই হলেন শর্টবলের শিকার।

তৃতীয় ওভারেই ইমাম উল হক (২)-কে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কটরেল। তবে অপর দিকে বেশ ছন্দে ব্যাট করছিলেন ফখর জামান। কিন্তু প্রথম পরিবর্তিত বোলার হিসেবে আক্রমণে এসেই তাঁকে ফিরিয়ে দেন দ্রে রুস অর্থাত আন্দ্রে রাসেল। তাঁর তীব্র গতির শর্ট বল আছড়ে পড়েছিল ফখরের হেলমেটে।  সেখান থেকে হাতে পড়ে বল লাগে উইকেটে।

ফখর ছাড়া দুই অঙ্কের রান পেয়েছেন বাবর আজম (২২), মহম্মদ হাফিজ (১৬) এবং ওয়াহাব রিয়াজ (১৮)। শেষের দিকে এলোপাথারি ব্যাট চালিয়ে রিয়াজ দুটি ছয় ও একটি চার মারায় তাও পাকিস্তান ১০০ রান পার করে। সত্যি বলতে পাকিস্তানের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে, শর্ট বলের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যাট করতে হয়, তাই নিয়ে কোনও ধারণাই নেই এই পাকিস্তান দলের। পরিকল্পনাহীন ব্যাটিং-এ প্রথম ইনিংস-এই প্রায় ম্যাচ হেরে বসল পাকিস্তান। আর প্রথম ম্যাচেই শক্তি জানান দিল এইবারের বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া হিসেবে চিহ্নিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ।