T20 World Cup Final: যতই সময় এগিয়েছে, ততই যেন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে গোটা স্কোয়াড। অভিষেক শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, সঞ্জু স্যামসন, বরুণ চক্রবর্তী, অনেকের ফর্ম নিয়ে কাঁটা ছেঁড়া চলেছে। কিন্তু দিনের শেষে পারফরম্যান্স শেষ কথা বলে। তাই ম্যাচে শেষে গোটা দলকেই এই জয়ের কৃতিত্ব দিলেন সূর্যকুমার যাদব। 

T20 World Cup Final: ঐতিহাসিক মাইলস্টোন। পরপর দুবার বিশ্বকাপ জয় টিম ইন্ডিয়ার। নিঃসন্দেহে দুর্দান্ত ক্রিকেট উপহার দিয়েই বিশ্বকাপ জার্নি শেষ করল ভারতীয় ক্রিকেট দল (ind vs nz t20)। আবারও গোটা বিশ্বের কাছে প্রমাণিত হল এই দলের দক্ষতা, গভীরতা এবং শক্তি। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং, এই তিন বিভাগেই সেরা পারফর্ম করলেন গৌতম গম্ভীরের ছেলেরা (ind vs nz t20 2026)। 

টি-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রবিবার, নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানের হারিয়ে ট্রফি জিতে নেন সূর্যকুমার যাদবরা (india vs new zealand final)। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, টি-২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের কিছু ম্যাচে একটু আধটু নড়বড়ে ছিল দল। মানে কিছুক্ষেত্রে একক দক্ষতায় ম্যাচ বেরিয়ে গেছে। তবে যতই সময় এগিয়েছে, ততই যেন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে গোটা স্কোয়াড। অভিষেক শর্মা, সূর্যকুমার যাদব, সঞ্জু স্যামসন, বরুণ চক্রবর্তী, অনেকের ফর্ম নিয়ে কাঁটাছেঁড়া চলেছে। কিন্তু দিনের শেষে পারফরম্যান্স শেষ কথা বলে। 

Scroll to load tweet…

গোটা বিশ্বকাপেই টিম ইন্ডিয়ার দাপট

প্রত্যেকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন এবং প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। তবে বিশ্বকাপের শুরু থেকেই ভারত যে ক্রিকেটটা খেলে এসেছে, তাতে আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পাওয়ারই কথা। কারণ, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৯ রানে জেতে ভারত। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি, দিল্লিতে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ৯৩ রানের বিশাল জয় পায় তারা। ১৫ ফেব্রুয়ারি, কলম্বোতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৬১ রানে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি আহমেদাবাদে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ১৭ রানে জয় ছিনিয়ে নেয় টিম ইন্ডিয়া। 

কিন্তু সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে হোঁচট খায় তারা। তবে তারপর আবার দুরন্ত গতিতে ফিরেও আসে। ৬ ফেব্রুয়ারি, চেন্নাইতে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৭২ রানে এবং ১ মার্চ, কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫ উইকেটে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে টিম ইন্ডিয়া। এরপর সেমিফাইনালে, ইংল্যান্ডকে ৭ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট পাকা করে ভারত। 

আর সেই সময় থেকেই আরও কয়েকটা বিষয় লক্ষ্য করা যায়। একটা সময়, সঞ্জু প্রথম একাদশে সুযোগ পাচ্ছিলেন না। তিনি তাঁর কামব্যাক ইনিংস শুরু করেন ইডেন থেকেই। অভিষেকও আসতে আসতে ফর্ম ফিরে পেতে থাকেন। আর ওদিকে বোলিং বিভাগকে কার্যত, একাই নেতৃত্ব দিতে থাকেন যশপ্রীত বুমরা। 

বিধ্বংসী ফর্ম বজায় থাকল ভারতের

Scroll to load tweet…

অর্থাৎ, আবারও সেই দলগত বোঝাপড়া। এই কথা বাস্তব যে, টিম ম্যানেজমেন্টও প্রচুর পরিশ্রম করেছে। আর সেই সুবাদেই ফাইনালে, এই ধামাকা পারফরম্যান্স। বিশেষ করে, চারজন এই ম্যাচের রংই বদলে দিয়েছেন। বিধ্বংসী ব্যাটিং। ফাইনাল ম্যাচে, আহমেদাবাদে রীতিমতো তাণ্ডব চালান অভিষেক শর্মা। টি-২০ ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে ২১ বলে ৫২ রানের অসাধারণ ইনিংস উপহার দিলেন টিম ইন্ডিয়ার তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা। যে ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ৩টি ছয়। স্ট্রাইক রেট ২৪৭.৬২।

এরপর আসা যাক সঞ্জু স্যামসনের কথায়। রীতিমতো দাপুটে ফর্ম বজায় রাখলেন তিনি। ৪৬ বলে ৮৯ রানের অনবদ্য ইনিংস। স্ট্রাইক রেট ১৯৩.৪৮। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার এবং ৮টি ছয়। উল্লেখ্য, সুপার এইটের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫০ বলে ৯৭ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন তিনি।

শ্রেষ্ঠ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করল টিম ইন্ডিয়া

এরপর সেমিফাইনালে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৪২ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন সঞ্জু। অর্থাৎ, তিনি ফর্মেই ছিলেন। আর এবার মেগা ফাইনালেও তাঁর সেই বিধ্বংসী ফর্ম বজায় থাকল। কার্যত, বাউন্ডারি এবং ওভার বাউন্ডারির বন্যা বইয়ে দিলেন আহমেদাবাদে। গোটা গ্যালারি তখন সঞ্জু জ্বরে আক্রান্ত। অসাধারণ ব্যাটিং।

Scroll to load tweet…

অন্যদিকে, ঈশান কিষাণ উপহার দেন ২৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংস। স্ট্রাইক রেট ২১৬.০০। তাঁর ইনিংসে ছিল ৪টি চার এবং ৪টি ছয়। আরেকজন হলেন যশপ্রীত বুমরা। ফাইনালের মঞ্চে তিনি অনবদ্য বোলিং করলেন। চার ওভার হাত ঘুরিয়ে দিলেন মাত্র ১৫ রান। সেইসঙ্গে, ঝুলিতে ৪ উইকেট। ইকোনমি রেট ৩.৮০। 

ম্যাচের সেরা একদিকে যশপ্রীত এবং টুর্নামেন্টের সেরা সঞ্জু। অর্থাৎ, কাকে ছেড়ে কার কথা বলবেন? তাই ম্যাচে শেষে গোটা দলকেই এই জয়ের কৃতিত্ব দিলেন সূর্যকুমার যাদব। আবারও বিশ্বের দরবারে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করল টিম ইন্ডিয়া।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।