লর্ডসে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ২০১৯-এর প্রথম ম্যাচে পিচে ঘাসের পরত ছিল। কিন্তু তার নিচে উইকেট যে একেবারে শুকনো তা চোখে পড়েছিল সুইং-এর সুলতান ওয়াসিম আক্রমের। তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন টসে জিতে আগে ব্যাট নেওয়ার। তারপরেও পাক অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ প্রথমে ব্য়াট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওযার পর অনেকেই বলেছিলেন এই পিচে মেঘলা আবহাওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকান বোলিং সামলাতে পারবে না পাকিস্তান ব্যাটিং। কার্যক্ষেত্রে অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে দারুণ মর্যাদা দিলেন পাকিস্তানি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। বিশেষ করে এদিন শোয়েব মালিকের বদলে দলে আসা হ্যারিস সোহেল মাত্র ৫৯ বলে ৮৯ রানের অনবদ্য ইনিংস খেললেন। পাক ইনিংসকে দৃঢ়তা দিলেন বাবর আজম (৬৯)। আর তার ফলেই ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩০৮ রান তুলল পাকিস্তান।

দক্ষিণ আফ্রিকা ভেবেছিল তাদের দুরন্ত পেস আক্রমণ দিয়ে শুরুতেই পেড়ে ফেলবে পাকিস্তান ব্যাটিং-কে। কিন্তু, পাকিস্তানের দুই গোড়াপত্তনকারী ব্যাটসম্যান ইমামুল হক (৪৪) ও ফখর জামান (৪৪) প্রোটিয়া পেস আক্রমণকে ভোঁতা করে দেন। জুটিতে ৮১ রান তুলে দলকে বড় রান করার একটা দুর্দান্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছিলেন তাঁরা। আক্রমণে এসেই অবশ্য তাঁদের ফিরিয়ে দেন ইমরান তাহির।

আর তার সেই ভিতের উপর দাঁড়িয়ে পাক ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান বাবর আজম। ভারত ম্যাচের পর এদিন ফের একবার দারুণ পরিণত ব্যাটিং করলেন তিনি। ৪১ ওভারে তিনি পাকিস্তানকে ২২৪/৪ স্কোরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। আর বাকি নয় ওভার  লর্ডসে রাজত্ব করলেন হ্যারিস সোহেল। মোট ৯টি চার ও ৩টি ছয় মারলেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের মধ্যে আরও একটা দারুণ দিন গেল ইমরান তাহিরের। এদিন তিনি ১০ ওবার হাত ঘুরিয়ে ৪১ রান দিয়ে ২ উইকেট নিলেন। বিশ্বকাপে মোট ৩৮ উইকেট নিয়ে অ্যালান ডোনাল্ডকে ছাপিয়ে তিনিই প্রোটিয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী হলেন। এনগিদিও ৩ উইকেট নিলেন বটে, কিন্তু ওভার প্রতি ৭-এর বেশি রান দিলেন। রাবাডা-মরিস-ফোহলুকাওইও'রাও এদিন বল হাতে ব্যর্থ।