আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯-এর শুরুটা যেন নিউজিল্যান্ডের জন্যই ধরে রাখা ছিল। শুরুতে বেশ কিছু ম্য়াচে অপরাজিত থাকে নিউজিল্য়ান্ড। তারপর থেকেই পরাজয়ের ডঙ্কা বাজতে থাকে নিউজিল্য়ান্ড-এর। ভাগ্য় তা মেনে নিতে নারাজ। কয়েকটি ম্য়াচ-এর দৌলতে ভাগ্য় ফিরেছিল তাদের।  এই ম্যাচগুলিই নিউজিল্যান্ড দলকে সেমিফাইনালের পথ নিশ্চিত করে। আর সেমিফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে অসামান্য জয় সেই তাদের নিয়ে যায় বিশ্বকাপ ফাইনালে। 

বিশ্বকাপ২০১৯-এ নিউজিল্যান্ডের সফর যেন অবিকল রোলার কোস্টার অভিযান। যার প্রথমঅর্ধে বিধ্বংসী নিউজিল্যান্ড এবং দ্বিতীয়ার্ধে চরম হতাশা তাদের। অন্যদিকে আলোচনার শীর্ষে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিইয়ামসন। নিউজিল্যান্ড এই নিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে। তবে সেখানে কেন উইলিয়ামসন কিউয়িদের সাফল্যের ইতিহাসে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারবে কিনা সেটাই দেখার। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন ক্রো, স্টিফেন ফ্লেমিং, এবং ব্রেন্ডন ম্যাকালাম, দের কাছেও যখন বিশ্বকাপের ট্রফি অধরা সেই পরিস্থিতিতে কেন উইলিয়ামসন-এর দিকেই নজর থাকবে সকলের। ২০১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের গোটা সফর দেখে নেওয়া যাক- 

শ্রীলঙ্কা-কে ১০ উইকেটে হারায়- 
শ্রীলঙ্কা-কে হারিয়ে তাদের নিউজিল্যান্ড  বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করে । মাত্র ৩জন শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের রান করতে পেরেছিল নিউজিল্যান্ডের সামনে, যার মধ্যে ছিল তাদের অধিনায়ক দিমুথ কারুনারাত্নে-র অর্ধশত রান। ১৯৯৬ এর বিশ্বকাপ বিজয়ী এই দল নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ১৩৬ রানের লক্ষ্য রাখে যা ১০০-র কম বলে তাড়া করে নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশ-কে ২ উইকেটে হারায়- 
ওভালে এই ম্যাচের শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ড চাপে ছিল। বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান-এর অর্ধশত রান এবং বাংলাদেশের মিডিল অর্ডাররের ব্যাটিং ২৪৪ রানের লক্ষ্য রাখে তাদের সামনে। নিউজিল্যান্ডের শুরু বাহ্ল হলেও ১৬০/২ এর পর থেকেই তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পরে তাদের মিডিল অর্ডার। তবে শেষ রক্ষা করেছে মিচেল স্যান্টনার এবং লোকি ফার্গুসন। এবং বাংলাদেশের কাছে দুই উইকেটে যেতে নিউজিল্যান্ড।

ভারতের সাথে খেলা হয়নি-
২০১৯ বিশ্বকাপে প্রথম বার দেখা হতে চলেছিল ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তবে বৃষ্টির জলে ধুয়ে গিয়েছিল সেই ম্যাচ। একটি বলও খেলা হয়নি সেই ম্যাচে। ব্রিটিশ আবহাওয়ার জন্য বেশ কিছু ম্যাচ বন্ধ হয়েছে চলতি বিশ্বকাপে। 

সাউথ আফ্রিকা-কে ৪ উইকেটে হারায়- 
এজবাস্টনে এই ম্যাচটিও কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছিল বৃষ্টির কারণে। তাই ম্যাচটি শুরুও হয় দেরিতে। তবে এই আবহাওয়াই ভাগ্য বদলায় কিউয়িদের। বৃষ্টির আবহাওয়ায় দুর্দান্ত হয়ে ওঠে তাদের বোলিং। স্বভাবতই কুইন্টন ডি কক-কে তাড়াতাড়ি প্যাভিলিয়নে পাঠায় কিউয়িরা। যদিও হাসিম আমলা এবং র‍্যাশি ভ্যান দের দাসেন-এর অর্ধশত রান ২৪১/৬  পৌঁছয় সাউথ আফ্রিকা-কে।  নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং প্রদর্শন কিছুটা ধীরে শুরু হয়। ১৩৭ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা। পরে উইলিয়ামসন-এর ১০৬ রান তাদের ম্যাচ জিততে সাহায্য করে এবং ৮ উইকেটে জেতে নিউজিল্যান্ড। 

ওয়েস্ট ইন্ডিজ-কে ৫ রানে হারায়- 
ওল্ড ট্র্যাফরডের এই ম্যাচটি সম্ভবত এক দিনের ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য থাকবে। কার্লোস ব্রেথওয়েট এবং ক্রিস গেইল দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেছে। তবে ট্রেন্ট বোল্ট-এর অসাধারন ব্যাটিং আবারও জয়ের শিখরে পৌঁছায় কিউয়িদের।

৬ উইকেটে হারে পাকিস্তানের কাছে-
জেমস নিশাম-এর অসাধারন ব্যাটিং নিউজিল্যান্ডকে ৮৩/৫ রান থেকে ২৩৭/৬ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। তবে পাকিস্তানের ফকর জামানের দুর্ধর্ষ বোলিং এর বিরুদ্ধে দারাতে পারেনি কিউয়িরা। ফলে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে যায় তারা। 

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৮৬ রানে পরাজিত হয়-
অস্ট্রেলিয়ান টপ অর্ডারের কাছে শুরুতে নিউজিল্যান্ড-এর প্রদর্শন ভালো হলেও বাধ সাধে মিডিল অর্ডার। পরপর উইকেট পরে যায় কিউয়িদের। যেখানে অস্ট্রেলিয়ান দল মাত্র ২৪৩/৯ রানের লক্ষ্য রাখে তাদের কাছে সেখানে মিচেল স্টার্ক-এর ২৬ রানে ৫ উইকেটের প্রদর্শন কিউয়িদের ব্যাটিং অর্ডার ধ্বংস করে এবং হার হয় নিউজিল্যান্ডের। 

ইংল্যান্ডের কাছে ১১৯ রানে হারে- 
ম্যাঞ্চেস্টারের এই ম্যাচটি একপক্ষীয় হয়ে যায় ইংল্যান্ডের দিকে। যেখানে জনি বেয়ারস্টো ৯৯ বলে ১০৬ রান করে ৩০৬ রানের টার্গেট রাখে নিউজিল্যান্ড-এর সামনে। যা তাড়া করতে অক্ষম হয় কিউয়িরা। মাত্র ১৮৬ রানে অল আউট হয়ে যায় তারা। ইংল্যান্ড-এর কাছে এই ম্যাচে হেরে সেমিফাইনাল প্রায় দুরহ হয়ে ওঠে তাদের। 

ভারত-কে সেমিফাইনালে ১৮ রানে হারায়-
আবারও বৃষ্টি বাধ সাধে এই ম্যাচে। সেকারনে এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ দুদিনে শেষ হয়। শুরুতেই তারা  মার্টিন গুপ্তিল-কে হারায়। তারপর উইলিয়ামসন এবং টেলর-এর খেলা ম্যাচটিকে ২৩৯/৮ রান পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। তবে ভারত ম্যাচটি জেতার আপ্রান চেষ্টা করলেও নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত বোলিং এর সামনে ১৮ রানে হেরে যায়।

এভাবেই বিশ্বকাপ ২০১৯ এ তাদের ফাইনালের পথ নিশ্চিত করে কিউয়িরা। এরপর সকলের দৃষ্টি ফাইনালের দিকে। ১৪ই জুলাই লর্ডস এ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সে ম্যাচ। কোন দল ট্রফি হাতে দেশে ফিরবে সেটাই দেখার।