রবিবার ভারত বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ চলতি বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচ হবে বলে আশা করা হয়েছিল। শেষ দিকে যখন ওভার প্রতি ১০ করে করতে হবে, তখনই ধোনি ক্রিজে আশায় সেই আশার সলতেতে আগুনও ধরেছিল। কিন্তু, ধোনি ও কেদার যাদবের উদ্দেশ্যহীন ব্যাটিং তাতে জল ঢেলে দেয়। সেই অপূর্ণ স্বাদ কিছুটা হলেও মিটল তার পরের শ্রীলঙ্কা বনাম ওয়েস্টইন্ডিজ ম্যাচে। প্রথমে ব্যাট করে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়ে ৩৩৮/৬ সংগ্রহ করেছিল শ্রীলঙ্কা। আর তারপর প্রায় একা হাতেই ম্যাচ বের করে নিয়ে যাচ্ছিলেন নিকোলাস পুরান। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। ক্যারিবিয়ানরা থামল ৩১৫/৯ রানে। ২৩ রানে ম্যাচ জিতে নিল শ্রীলঙ্কা।

এটা ছিল একটা নেহাতই নিয়মরক্ষার খেলা। শ্রীলঙ্কা বা ওয়েস্টইন্ডিজ কোনও দলেরই সেমিফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। অথচ সেই ম্য়াচই ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচের থেকেও জমে উঠল। যে শ্রীলঙ্কা দল চলতি বিশ্বকাপে এতদিন ৫০ ওভার পুরো ব্যাট করতে পারছিল না, একটি ম্যাচেও ২৫০ রান পার করতে পারেনি, তারাই সোমবার ওয়েস্টইন্ডিজের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে ৩৩৮/৬ রান তুলল।

তিন নম্বরে নেমে দুর্দান্ত শতরান করলেন আবিষ্কা ফার্নান্ডো (১০৪)। তার আগে তাদের দুই গোড়াপত্তনকারী ব্যাটসম্যান দিমুথ করুনারত্নে (৩২) ও কুশল পেরেরা (৬৪) ১৫ ওভারে ৯৩ রান তুলে বড় ইনিংসের ভিত গড়ে দেন। আর তার উপর দাঁড়িয়ে আবিষ্কা ফার্নান্ডো ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান, কুশল মেন্ডিস (৩৯), অ্যাঞ্জেলো ম্য়াথুস (২৬) ও লাহিরু থিরিমানে (৪৫)-কে সঙ্গে নিয়ে।

ওয়েস্টইন্ডিজ ইনিংসের শুরুতেই সুনিল অম্বরিশ (৫) ও শাই হোপ (৫)-কে ফিরিয়ে ধাক্কা দিয়েছিলেন মালিঙ্গা। ফের ১৬ ও ১৮ তম ওভারে পর পর ক্রিস গেইল (৩৫) ও হেটমায়ার ফিরে যাওয়ায় মাত্র ৮৪ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুকছিল ওয়েস্টইন্ডিজ।  
 
এখান থেকেই পাল্টা লডা়ইটা ছুড়ে দেন পুরান (১১৮)। অধিনায়ক হোল্ডার (২৬) ও অভিজ্ঞ ব্রেথওয়েট (৮) খুব বেশিক্ষণ তাঁকে সঙ্গ দিতে না পারলেও ফাবিয়ান অ্যালেন (৫১)-এর সঙ্গে মাত্র ৫৮ বলে ৮১ রান য়োগ করে দ্বীপরাষ্ট্রের চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিনিশিং লাইন এদিনও টপকাতে পারলেন না ক্যারিবিয়ানরা।