বিশ্বকাপ ২০১৯-এ ১০ দলের মধ্য়ে ইতিমধ্য়েই ৯টি দলের অন্তত একটি করে ম্য়াচ খেলা হয়ে গিয়েছে। একমাত্র মাঠে নামেনি বিরাট কোহলির ভারত। আর মাত্র ২ দিন, তারপর ৫ জুন তারিখেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের প্রথম ম্য়াচ খেলতে নামছে ভারত। তার আগে ভারতের প্রথম একাদশ মোটামুটি গোছানো হয়ে গিয়েছে।

ইংল্যান্ডে এসে প্রথম অনুশীলন ম্য়াচে মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের সামনে ভরাডুবি হয়েছিল ভারতীয় ব্যাটিং-এর। তার পরের ম্যাচেই অবশ্য নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে দারুণ জয় তুলে নিয়েছেন বিরাটরা। দল গোছানোর সঙ্গে সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়েছে।  

তবে প্রতম একাদশে একেবারে নিশ্চিত থাকা কেদার যাদবের চোট, এবং প্রথমে আইপিএল তারপর অনুশীলন ম্য়াচে কেএল রাহুল, রবীন্দ্র জাদেজাদের মতো ক্রিকেটারদের দারুণ পারফরম্যান্স - সব মিলিয়ে কয়েকটি জায়গা নিয়ে এখনও প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গিয়েছে। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে কিন্তু এই প্রশ্নগুলির উত্তর বের করতেই হবে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে।

চার নম্বরে রাহুল না শঙ্কর?

বিশ্বকাপ শুরুর দিন পর্যন্ত ভারতের ব্যাটিং লাইন-আপের এই ধাঁধা রয়েই গিয়েছে। দল নির্বাচনের সময় নির্বাচকরা রায়ডুর বদলে বিজয় শঙ্করকে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে গত দেড় মাসে অনক কিছুই বদলে গিয়েছে। আইপিএল ২০১৯-এ সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি শঙ্কর। তার উপর বিলেতে এসে প্রথম দিই অনুশীলনে তিনি হাতে চোট পান। যার জন্য প্রথম অনুশীলন ম্যাচে খেলতে পারেননি। পরেরটিতে কেললেও, নজর কাড়ার মতো কিছু করতে পারেননি।

অন্যদিকে একটি দুর্দান্ত আইপিএল মরসুমের পর দ্বিতীয় অনুশীলন ম্য়াচে চার নম্বরে নেমে দারুণ পরিণত ব্যাটিং করেছেন কেএল রাহুল। ৯৯ বলে ১০৮ রান করে ধোনির সঙ্গে ১৬৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। এখন তাঁকে উপেক্ষা করাটা সম্ভব নয়।

কেদার না খেললে তাঁর বদলে কে?

কেদার যাদব বড় মাপের তারকা না হলেও, অত্যন্ত কাজের খেলোয়াড়। লোয়ার অর্ডারে মারকুটে ব্য়াট করতে পারেন। বড় ইনিংস-ও খেলতে পারেন। আবার বল হাতে সীমিত ক্ষমতায় উইকেট তুলে নিতে পারেন। বিশ্বকাপে দলের ছয় নম্বরে তাঁর জায়াটা একেবারে পাকা। কিন্তু তাঁকে ফের ভোগাচ্ছে ফিটনেস। আইপিএল থছেকেই কাঁধের চোট নিয়ে তিনি এসেছেন। তাই বিশ্বকাপের প্রথম দিকের কয়েকটি ম্যাচে তাঁর না খেলারই  সম্ভাবনা বেশি।

তিনি না খেললে তাঁর জায়গায় খেলানো হতে পারে দীনেশ কার্তিককে। এর আগে কার্তিক ভারতের হয়ে ৬ নম্বরে ব্য়াট করেছেন। চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখতে পারেন। বড় শট মারার ক্ষমতাও রয়েছে। সেই সঙ্গে ফউকেটরক্ষার পাশাপাশি মাঠেও ফিল্ডার হিসেবে বেশ ভাল কার্তিক।

এছাড়া, বিজয় শঙ্কর চার নম্বরে না খেললে তাঁকে ছয় নম্বরেও খেলানো হতে পারে। বিজয় লোয়ার অর্ডারেও ভাল ব্যাট করে পারেন। অনুশীলন ম্যাচে বল হাতে কিছুই না করতে পারলেও, তিনি খেললে ভারতের হাতে একজন বাড়তি বোলিং বিকল্পও থাকবে। মেঘলা আবহাওয়ায় তাঁর বল কার্যকরী হতে পারে।

কুল-চা নাকি জাদেজা ও আরও একজন?

২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকেই ভারত প্রায় সব একদিনের ম্যাচেই কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহাল-কে একসঙ্গে খেলিয়েছে। কিন্তু, এশিয়া কাপ ২০১৮-তে দলে ফিরে আসেন রবীন্দ্র যাদব। আর তারপর থেকে যখন যখনই সুযোগ পেয়েছেন, পারফর্ম করেছেন।

সবচেয়ে বড় কথা বিলেতে আসার পর দুটি অনুশীলন ম্য়াচেই শুধু বল হাতেই নয় ব্যাট হাতেও দারুণ খেলেছেন জাদেজা। প্রথম ম্য়াচে অর্ধশতরান করেছেন। বল হাতেও দারুণ আঁটোসাঁটো বল করেছেন। তাঁকে দলে নিলে আট নম্বরে নেমে ব্যাট হাতেও বেশ কিছু রান করতে পারবেন। মিডল অর্ডারে ধস নামলে লোয়ার অর্ডারে তাঁর ব্যাটিং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই সঙ্গে তাঁর বিদ্যুত গতির ফিল্ডিং তো রয়েইছে।

অন্যদিকে এই বছরের আইপিএল-টা কুলদীপের খুব খারাপ গিয়েছে। উইকেট পাচ্ছিলেন না বহুদিন ধরে। শেষ অনুশীলন ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অবশ্য ৩টি উইকেট নিয়েছেন। তিনিই দলের প্রধান স্পিনার তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু তাঁর সঙ্গে চাহালকে খেলিয়ে জোড়া রিস্ট স্পিনারের কৌশলে থাকবে, না জাদেজার মতো অলরাউন্ডারকে কাজে লাগানো হবে - এটাও একটা বড় অথছ অস্বস্তির প্রশ্ন বারতের সামনে।