সালটা ২০১৫, অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয়েছিল একটা বিপ্লব। গোলাপী বলে দিন রাতের টেস্ট। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড সেবার দেখেছিল এই ক্রিকেট বিপ্লব। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল সেই টেস্টে। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল সেই ম্যাচ। অ্যাডিলেড এখনও পর্যন্ত সব থেকে বেশি ডে নাইট টেস্টের আয়োজন করেছে। নভেম্বরের ২২ তারিখ থেকে কলকাতায় শুরু হচ্ছে ভারতের প্রথম দিন রাতের টেস্ট। তার আগে ইডেনের জন্য কিছু পরামর্শ দিলেন অ্যাডিলেড ওভারের মুখ্য পিচ কিউরেটর ডেমিয়ান। তাঁর স্পষ্ট কথা, সবার আগে মাথায় রাখতে হবে নিজের ভেন্যুর বৈশিষ্ট্য। তার ওপর ভর করেই তৈরি করতে হবে সবকিছু। 

 

আরও পড়ুন - রাহুল দ্রাবিড়ের পর এবার সৌরভ, স্বার্থ সংঘাতের অভিযোগ থেকে মুক্ত মহারাজ

ডেমিয়ান জানিয়েছেন ২০১৫ সালে প্রথম টেস্ট আয়োজন করার সময় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিল তাঁরা। প্রথমবার ডে নাটই টেস্টের সময়, ড্রপ ইন পিচে হয়েছিল খেলা। ডেমিয়ানদের লক্ষ্য ছিল প্রথম দিকে উইকেট শক্ত থাকবে কিন্তু শেষ দিকে উইকেট কিছুটা স্পিন সহায়ক হয়ে উঠবে। তবে প্রথম টেস্ট আয়োজনের পর তাঁর বুঝে ছিলেন ড্রপ ইন পিচে ডে নাইট টেস্ট সফল ভাবে আয়োজন করা খুব একটা সহজ নয়। তারপর থেকে আবার সাধারণ উইকেটে ফিরে এসেছেন তাঁরা। ডেমিয়ান জানিয়েছেন উইকেটে যত বেশি সম্ভব ঘাস রাখতে হবে প্রথম দিকে। যাতে বোলার ও ব্যাটসম্যান উভয় পক্ষই নিজেদের সেরা দিতে পারে। 

আরও পড়ুন - কোহলির হয়ে ব্যাট ধরলেন জাহির খান, সভাপতি সৌরভকে নিয়েও প্রশংসা জ্যাকের

তবে অ্যাডিলেড ও কলকাতার মধ্য সব থেকে থেকেই অনেক পার্থক্য আছে। সেটা মাথায় রেখেই ডেমিয়ানের পরামর্শ নিজেদের মাঠের বৈশিষ্ঠ্য মাথায় রেখে কাজ করতে হবে ইডেনকে। মাথায় রাখতে হবে দিন রাতের ম্যাচর ইতিহাস। এবং সেইগুলির অভিজ্ঞতা থেকেই সাজিয়ে তুলতে হবে সবকিছু। ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট বর্তমানে স্পোর্টিং। প্রতিভা থাকলে ব্যাটিং ও বোলিং উভায় বিভাগই সমান সুবিধে তুলে নিতে পারে নন্দন কাননের ২২ গজ থেকে। পাশাপাশি ২০১৬ সালে ইডেনে ঘরোয়া লিগের চার দিনের একটি ম্যাচ খেলা হয়েছিল মোহনবাগান ও ভবানীপুরের মধ্যে। সেই ম্যাচ আয়োজনের অভিজ্ঞতাও সঙ্গী সুজন মুখোপাধ্যায়দের। ইডেনের ২২ গজে এখন চলছে শেষ তুলির টান। ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে ইডেন উদ্যান সব সময়ই একটা অন্য মাত্রা যোগ করে এসেছে। ২২ তারিখ থেকে ডে নাইট টেস্টের সফল আয়োজন করতে পারলে ইডেনের রাজ মুকুটে নতুন পালক সংযোজন হবে। সেদিকেই তাকিয়ে বাংলা ও ভারতের ক্রিকেট প্রেমীরা। 

আরও পড়ুন - প্রতিপক্ষের জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছে বিরাটের, এরপর বুমরা এলে কী হবে