বিশ্বকাপ ফাইনালের পর তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও বাউন্ডারি কাউন্ট নিয়ম নিয়ে ক্রিকেট মহলে জল্পনা অব্যাহত। অনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন ক্রিকেট কমিটি তাদের পরবর্তী বৈঠকে এই নিয়ম নিয়ে আলোচনা করবে। কারণ,  আইসিসি-র জেনারেল ম্যানেজার জিওফ অ্যালারডিস জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের বিষয়ে কোনও সমস্যা থাকলে তা নিয়ে ক্রিকেট কমিটির পরবর্তী বৈঠকেই আলোচনা হবে। বাউন্ডারি কাউন্টের নিয়ম কি আদৌ যুক্তিযুক্ত, নাকি কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মে, কু্ম্বলের নেতৃত্বাধীন কমিটির পরবর্তী বৈঠকের পরেই তা জানা যাবে।

১৪ই জুলাই লর্ডসের ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বিশ্বকাপ ফাইনালের ফয়সালা হয়েছিল বাউন্ডারি কাউন্ট নিয়মে। সুপার ওভারেও ম্যাচ টাই হওয়ার পরে দেখা যায় গোটা ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের থেকে বেশি বাইন্ডারি মেরেছে ইংল্যান্ড। সেই নিয়মেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় ইয়ন মর্গ্যানের দল। বিশ্বকাপ ফাইনালে মোট ২৪টি বাউন্ডারি মেরেছিল ইংল্যান্ড। তার মধ্যে  ছিল দুটো ওভার বাউন্ডারি। সেখানে পিছিয়ে পড়েছিল কিউয়িরা। ফাইনালে সব মিলিয়ে ১৭ টি বাউন্ডারি এসেছিল কিউইদের ব্যাট থেকে। যার সবকটিই ছিল চার। তাই দুর্ধর্ষ ফাইনাল খেললেও বিশ্বকাপ অধরাই থেকে যায় কেন উইলিয়ামসনদের কাছে। ফাইনালের পর আইসিসি-র এই নিয়ম নিয়ে সরব হয়েছিলেন সাধারণ সমর্থক থেকে প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। তবে তাতেও কোনও পরিবর্তন আসেনি নিয়মে। এর পর আনিল কুম্বলের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি এই নিয়মে কোনও বদলের সুপারিশ করে কি না, সেটাই দেখার।  

বাউন্ডারি কাউন্ট নিয়ম  নিয়ে সমালোচনা হলেও এর পক্ষেই সওয়াল করেছে আইসিসি। তাদের দাবি ছিল, বিশ্বের সব পেশাদার ক্রিকেট লিগেই বাউন্ডারি কাউন্ট নিয়ম চালু হয়েছে। এবং এটি খুবই জনপ্রিয়। সেই জন্যই বিশ্বকাপ ফাইনালেও এই নিয়মেই ফয়সলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছিল বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা। 

বিশ্বকাপে যুগ্ম বিজয়ী ঘোষণার বিষয়েও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন আইসিসি-র অন্যতম শীর্ষ কর্তা অ্যালারডিস। তাঁর মতে, বিশ্বকাপে একটিই দলকেই জয়ী হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য সুপার ওভারের মাধ্যমেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করার চেষ্টা হয়েছিল।