দীর্ঘ জল্পনা কল্পনার পর অবশষে রবিবার গভর্নিং কাউন্সিলের মিটিংয়ের পর ঘোষিত হয়েছে আইপিএলের চূড়ান্ত ক্রীড়াসূচি। আরব দেশে ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বসছে ভারতের কোটিপতি লিগের আসর। যদিও করোনা বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করবে সব কিছু। তবে আপাতত আইপিএল হওয়ার খবরে খুশি বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, আইপিএলের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ প্যাটেল থেকে অন্যান্য কর্তারা। ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ায় স্বস্তিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।

আরও পড়ুনঃমিলল কেন্দ্রের সবুজ সংকেত, সরকারিভাবে ঘোষণা হল আইপিএলের দিনক্ষণ

কিন্তু স্বস্তির মধ্যেও রয়েছে অস্বস্তি। লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন সংঘর্ষের পরই দেশ জুড়ে চিনা দ্রব্য বর্জনের ডাক উঠেছে। বহুল জনপ্রিয় টিকটক সহ ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করেছে কেন্দ্রীয় সরকারও। আইপিএলের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছে একাধিক চিনা স্পনসর। তারমধ্যে প্রধান আইপিএলের টাইটেল স্পনসর ভিভো। এছাড়াও রয়েছে  ‘আলিবাবা’, ‘পেটিএম’ সহ একাধিক চিনা অ্যাপ। আইপিএল থেকেও চিনা স্পনসর বাতিলের দাবি ওঠে। কিন্তু রবিবার গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে সমস্ত চিনা স্পনসরকে রেখে দেওয়ার। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে প্রতিবাদ। টুইটারে টপ ট্রেন্ডিংয়ে #BoycottIPL। ভারতীয় বোর্ডের ‘সোনার হরিণ’ আইপিএলের টাইটেল স্পনসর ‘ভিভো’-ই প্রতিবছর আইপিএল আয়োজনের জন্য ৪৪০ কোটি টাকা দেয়। পাঁচ বছরে মোট ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার চুক্তি আছে সংস্থাটির সঙ্গে। এ ছাড়াও খুচখাচ কিছু চিনা সংস্থা ভারতীয় ক্রিকেট টিমের সঙ্গে জড়িত। এমনিতে করোনার কারণে বিশ্বের অর্থনীতির অবস্থা টালমাটাল। এই পরিস্থিতিতে সকল চিনা স্পনসর ছেড়ে দিয়ে নতুন স্পনসর জোগার কার সহজ। সেই কারণেই চিনা স্পনসরদের রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিবাদে সরব হয়েছে নেটিজেনরা।

আরও পড়ুনঃআইপিএলের ঢাকে কাঠি,জেনে নিন টুর্নামেন্ট নিয়ে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

আরও পড়ুনঃ৫৩ দিনের আইপিএলে পরিবার নিয়ে আরব দেশে যেতে পারবেন প্লেয়াররা

শুধু নেট দুনিয়াই নয়, রাজনৈতিক মহল সরব হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তে।  বোর্ড তথা সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ। টুইটে তিনি বলছেন,”চিনা মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থা এবছরও আইপিএলের স্পনসর থাকছে। অথচ আমাদের বলা হচ্ছে চিনা পণ্য বয়কট করতে। চিনারা যে আমাদের উপর জাঁকিয়ে বসেছে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। কারণ, আমরা বুঝতেই পারছি না চিনাদের নিয়ে আমাদের কী করা উচিত।” রীতিমতো আক্রমণাত্বক সুরে ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা বলছেন,”বিসিসিআই সমস্ত চিনা স্পনসর ধরে রাখল। এরপর চিনারা জেনে যাবে, যে ওদের স্পনসরশিপ ছাড়া আমরা চলতে পারব না। অথচ কিছু নির্বোধ মানুষ নিজেদের চিনা টিভিগুলি ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল।” ফলে আইপিএলের ঢাকে কাঠি পড়লেও, জোরকদমে প্রস্তুতি চললেও চিনা স্পনসর বিতর্ক যে খুব সহজে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পিছু ছাড়বে না তা পরিষ্কার।