দেশ তথা রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। সমান তালে বাড়ছে মৃত্যুর হারও। যা ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে রাজ্য তথা দেশবাসীর। করোনাকে হারাতে হলে সচেতনতাই যে একমাত্র পথ তা বারবার বলেছেন প্রশাসনিক কর্তা থেকে শুরু করে চিকিৎসক, ক্রীড়াবিদ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারপরও কিছু মানুষ এখনও অসেচতনভাবে জীবনযাপন করছেন। রোজ বাজার যাচ্ছেন, দলবল মিলে আড্ডা দিচ্ছেন। যার ফলে সে নিজের, নিজের পরিবারের ও আরও অনেকের বিপদ বাড়াচ্ছেন। তাই এবার করোনা ভাইরাসকে প্রতিহত করতে ও মানুষের সচেতনতা বাড়াতে এগিয়ে এলেন বাংলার প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। লকডাউনকে সমর্থন জানিয়ে ক্রিকেটারদের নিয়ে স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবি তৈরি করার উদ্যোগ নিলেন বাংলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক ও বর্তমানে রাজ্যের মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা। লক্ষ্মীর লেখা স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয় করলেন,  মনোজ তিওয়ারি, অনুষ্টুপ মজুমদার, সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরাশিস লাহিড়ী, বাংলা ব্যান্ড ভূমির সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও লক্ষ্মী নিজে।

আরও পড়ুনঃকরোনার জের,বাংলার ঘরোয়া ক্রিকেট মরসুম বাতিল করতে পারে সিএবি

স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবিতে দেখানো হয়েছে,লকডাউনের প্রথম দিকে কেউই করোনা ভাইরাস ও লকডাউনকে তেমনভাবে পাত্তা দেননি। প্রত্যেক দিন বাজারে যাওয়ার নামে গল্প করতে বেরোতেন লক্ষ্মী, অনুষ্টুপ, সুরজিৎ, সৌরাশিস। কিন্তু হঠাৎ একদিন জানতে পারেন তাদের এক বন্ধুর জ্বর হয়েছে। তখনই করোনা আতঙ্ক গ্রাস করে তাদের সকলকে। তখন সন্বোরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের দাদা হিসেবে সকলকে শাসন করেন। লকডাউন সহ প্রশাসনের সমস্ত রকম নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে মুরগীর মাংস, খাসির মাংস, চিংড়ি মাছের মালাইকারীর পরিবর্তে বাড়িতে থেকে ডাল-ভাত-আলু চোখা খাওয়ার পরামর্শ দেন। অভিভাবক হিসেবে সম্বোরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা শুনে তা মেনেও নেন সকলেই। প্রাক্তন বাংলা অধিনায়কের বার্তা, “বাজার করতে যাওয়ার অজুহাতে যেন আমরা বারবার বাইরে না বেরোই। বাড়িতে থেকে ভাত, ডাল, আলুসেদ্ধ খেয়েই কয়েক দিন থাকার চেষ্টা করি।” তাই এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের ছবির নামও রাখা হয়েছে ‘ডাল, ভাত, চোখা’।

আরও পড়ুনঃফুটবলারদের একা একা ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে ট্রেনিংয়ের অনুমতি দিল লা লিগা কর্তৃপক্ষ 

আরও পড়ুনঃচুনী গোস্বামীর প্রয়াণ ভারতীয় ফুটবলে এক যুগের অবসান,তাঁর বর্ণময় জীবনের কিছু মুহূর্ত আপনাদের জন্য

ছবির ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে রাজ্যের ক্রীড়া দফতরের প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন,“আমরা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলেছি। তাই সমাজকে সচেতন করার দায়িত্ব নিই। আমিই লিখি ছোট একটা গল্প। তার উপরে কাজ হয়। আমরা কিন্তু বাড়ির মধ্যে থেকেই অভিনয় করেছি।” বাংলার রঞ্জিজয়ী অধিনায়ক সম্বরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছিলেন, “লক্ষ্মীর উদ্যোগে খুব ভাল অভিজ্ঞতা হল। এই লকডাউনকে অনেকেই গ্রীষ্মের ছুটি হিসেবে দেখছে। নিয়মিত বাজার গিয়ে মাছ, মাংস কিনে আনছে। ঘুরতে বেরোচ্ছে। তাঁদের সচেতন করার জন্য এই উদ্যোগ।’’ সিনামার শেষে বাংলার ক্রিকেটার সকলের উদ্দেশ্যে বার্তাও দিয়েছেন। সকলে ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন। সকলে মিলে একসঙ্গে লড়াই করলেই করোনাকা হারানো সম্ভব। একইসঙ্গে বলেছেন, এই সময় ভাল-মন্দ না খেয়ে ভরসা রাখুন ডাল-ভাত-চোখায়।