১৯৩৮-৩৯ এ প্রথমবার। তারপর শেষবার সম্ভব হয়েছিল ১৯৮৯-৯০ ক্রিকেট মরশুমে। ৫১ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেবার রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল অরুণ লালের নেতৃত্বে থাকা বাংলা। বৃষ্টি বিঘ্নিত ফাইনালে ইডেন গার্ডেনে দিল্লিকে হারিয়ে ভারত সেরার মুকুট নিজেদের মাথায় পড়েছিল বাংলা। রাজীব শেঠ অসাধারণ বোলিং এবং অরুণ লালের অর্ধশতরানে ভর করে বাংলার ক্রিকেটের সবচেয়ে সুন্দরতম মুহুর্তটি উপহার দিয়েছিলেন বাংলার ক্রিকেটাররা। আশ্চর্যজনকভাবে সকলকে চমকে দিয়ে সেইবারের রঞ্জি ফাইনালেই অভিষেক হয় ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি সৌরভ গাঙ্গুলির। তার দাদা স্নেহাসিস গাঙ্গুলির জায়গায় ফাইনালে দলে সুযোগ পেয়েছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সী সৌরভ। তাতে অবশ্য দাদা-ভাইয়ের সম্পর্কে বিন্দুমাত্র তিক্ততা বাড়েনি। ম্যাচের পর দুজনে দুজনকে জড়িয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন। যদিও ম্যাচটিতে মাত্র ২২ রান করেছিলেন তিনি। 

এইবারের মরশুমে শাহবাজ, শ্রীবৎস, অনুস্টুপ দের হাত ধরে রঞ্জি জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলা। সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর কেটে গেছে ৩০ টা বছর। মাঝে কেবলমাত্র ২ বার রঞ্জি ফাইনালে উঠতে পেরেছে বাংলা। কিন্তু দিল্লি বা মুম্বাইয়ের কাছে হেরে ট্রফি অধরা থেকে গেছে। এইমুহুর্তে কর্ণাটকের সাথে সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে বাংলা। সেখানে প্রথম দুই দিনের চিত্র দেখে ট্রফির স্বপ্ন দেখছেন অনেকেই। 

সৌরভ গাঙ্গুলি সিএবি প্রেসিডেন্ট হয়ে আসার পর থেকে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছিলেন এই কাজে। বাংলার ক্রিকেটের উন্নতির জন্য তিনি এনেছিলেন "ভিশন ২০২০" এর মতো প্রজেক্ট। তার অংশ হয়ে ওয়াকার ইউনিস, মুথাইয়া মুরলিধরণ, ভিভিএস লক্ষণের মতো প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটাররা কোচিং করিয়ে গেছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও কোথায় যেন খামতি থেকে যাচ্ছিল। এই মরশুমের শুরুতেও সিনিয়র বোলার অশোক দিন্দার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ও সেই অভিযোগ বশত তার দল থেকে বাদ পড়া, যোগ্য ক্রিকেটারদের দলে সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ সব মিলিয়ে খানিকটা টালমাটাল পরিস্থিতি চলছিল। সেটা কাটিয়ে সেমিতে উঠা গেছে দেখে অনেকেরই মনে প্রশ্ন যে তবে কি বাংলার তৃতীয় রঞ্জি জয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ কি এসে গিয়েছে? 

শনিবার টসে জিতে বাংলাকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় কর্ণাটক। পুরো টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার ধারা অব্যহত রেখে স্কোরকার্ডে ১০০ রান তোলার  আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যায় বাংলার টপ অর্ডার। এই অবস্থায় রুখে দাঁড়ান অনুস্টুপ মজুমদার। শাহবাজ আহমেদ এবং আকাশ দীপ-কে সাথে নিয়ে প্রবল লড়াই লড়তে শুরু করেন তিনি। ফলস্বরূপ লাঞ্চের আগে পুরো টপ-অর্ডার কে হারিয়ে ফেলা বাংলা দিনের শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৭৫। গোটা টুর্নামেন্টের মতোই শেষদিকে ব্যাট হাতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যান শাহবাজ। আকাশ দীপের ব্যাটও ভরসা দেয় বাংলাকে। দ্বিতীয় দিন ঈশান পোরেলের সাথে জুটি বেঁধে দলকে তিনশোর গন্ডি পার করিয়ে নিজে ১৪৯ রানে অপরাজিত থেকে যান অনুস্টুপ। সকালের সুইংকে কাজে লাগিয়ে কর্ণাটক ব্যাটিং অর্ডারকে ছারখার করে দেন বাংলার বোলাররা। অসাধারণ বোলিং করেন ঈশান পোরেল। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন আকাশ দীপ। ঈশান পাঁচ উইকেট এবং আকাশ দীপ নেন তিন উইকেট। কর্ণাটকের তারকা ব্যাটসম্যানরা সকলে ব্যর্থ। ভারতীয় দলে নিয়মিত থাকা কর্ণাটকের দুই তারকা লোকেশ রাহুল এবং মনীশ পান্ডে কে ফেরান বাংলার তৃতীয় পেসার মুকেশ কুমার। মাত্র ১২২ রানে অল-আউট হয়ে যায় কর্ণাটক। ১৯০ রানের বিশাল লিড পায় বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলার স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেট খুইয়ে ৭২। আজ সকালে ব্যাট করতে নেমে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলার স্কোর ৬ উইকেটে ১০২। ব্যাট করছেন অনুষ্টুপ ও শাহবাজ। অনুষ্টুপ ২১ রানে ব্যাট করছেন। শাহবাজ ব্যাট করছেন ৪ রানে। এই মুহূর্তে বাংলার ২৯২ রানের লিড নিয়েছে।