সূচি অনুযায়ী অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হওয়ার কথা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ।  যদিও করোনা ভাইরাসের কারণে সঠিক সময়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়া নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়াতেই করোনার কারণে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবাও। যদিও সঠিক সময়ে বিশ্বকাপ করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে প্রশাসন ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। যদিও বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়, তাহলে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু এখানেই উঠেছে আপত্তি। প্রাক্তন অজি অধিনায়ক অ্যালান বর্ডার থেকে বিধ্বংসী অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, সকলেই চান দর্শকঠাসা মাঠেই হোক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কিন্তু করোনা-পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্টেডিয়ামে সমর্থকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।

আরও পড়ুনঃলকডাউনে নতুন কিছু শিখুন,নিজের অস্ত্র শান দিন,মন্তব্য লিয়েন্ডার পেজের

শুধু ক্রিকেটারই নয়, ফাঁকা মাঠে বিশ্বকাপ করলে কী লাভ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া মন্ত্রী রিচার্ড কোলবেক। তিনি বলেছেন, ভারত অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি আমরা। নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা নিয়ে আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু মাঠে দর্শক প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কিনা,সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে।" এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী জানিয়েছেন,"আমরা জানি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁদের সম্পূর্ণ আলাদা রাখার ব্যবস্থাও করতে রাজি। কিন্তু করোনার প্রভাব রুখতে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। যেমন করোনা প্রভাবিত দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ। বিশ্বকাপ হলে এই নিষেধাজ্ঞা তুলতে হবে। ক্রিকেটারেরা আসুন, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু ভিন দেশের সমর্থকদের আটকানো হবে কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” আইসিসি টুর্নামেন্টের প্রথা অনুযায়ী যদিও বাছাই করা দেশের সমর্থকদের আটকানোর কোনও নিয়ম নেই। তবে আগস্টের মধ্যেই আমরা জানিয়ে দেব যে আমরা বিশ্বকাপ ও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আয়োজন করতে পারব কিনা। একইসঙ্গে সমর্থকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে"।

আরও পড়ুনঃ১৬ মে থেকে শুরুর কথা বুন্দাসলিগা,তার আগে জার্মান ফুটবল লিগে করোনা আক্রান্ত ১০

আরও পড়ুনঃকরোনার জেরে স্থগিত হয়ে গেল সায়নীর মলোকাই চ্যানেল জয়, মন খারাপ বাংলার 'সাগরিকার'
 
করোনা ভাইরাসের কারণে এমনতেই বড়সড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিতে হয়েছে লোনও। এই অবস্থায় যদি দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে করতে হয় তাহলে  প্রায় ৩০০ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার লোকসান হবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৪৫৫ কোটি টাকা। এই  বিপূল ক্ষতির আশঙ্কাতেই দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে দ্বিধা বোধ করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কর্তা থেকে প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা। তবে শেষমেশ কী সিদ্ধান্ত হতে চলেছে তারজন্য সকলকেই অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকটা দিন।