আইপিএল ২০২০-র দ্বিতীয় ম্যাচে সুপার সানডেতে সুপার ওভার থ্রিলারের সাক্ষী রইল ক্রিকেট বিশ্ব। গোটা ম্যাচেই রুদ্ধশ্বাস ক্রিকেট দেখল ক্রিকেট প্রেমিরা। কখনও দিল্লি এগিয়েছে, তো কখনও পঞ্জাব। নির্ধারিত ২০ ওভারেও অমীমাংসিত থেকে যায় এই লড়াই। অবশেষে সুপার ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় দিল্লি।এদিন ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কেএল রাহুল। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দিল্লি ক্যাপিটালস। প্রথমেই রান আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান শিখর ধওয়ান। তারপর কার্যত আগুন ঝড়ান পঞ্জাবের তারকা পেসার মহম্মদ শামি।  পৃথ্বী শ ও শেমরন হেটমায়ারকে আউট করেন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেন শেলডন কটরেল ও ক্রিস জর্ডান। প্রথম পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে দিল্লির স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২৩। সেই সময় চাপে পড়ে যায় দিল্লি দল। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দিল্লিকে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায় অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়র ও উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান ঋষভ পন্থ। 

কিন্তু দলের ৮৬ রানের মাথায় ১৪ তম ওভারে তৃতীয় উইকেট পড়ে দিল্লির। তরুণ স্পিনার রবি বিষ্ণইয়ের বলে বোল্ড আউট হন পন্থ। ৩১ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। এরপর ১৫ তম ওভারে ফের মহম্মদ শামিকে বলে নিয়ে আসেন কেএল রাহুল। আরলফের দলকে সাফল্য এবনে দেন তিনি। ৮৭ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ে দিল্লির। শামির বলে ব্যক্তিগত ৩৯ রানে আউট হন দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়র। পরপর ফের দু উইকেট পড়ে ফের চাপে পড়ে যায় দিল্লি। এরপর যখন সকলে মনে করছিলেন দিল্লির ইনিংস গুটিয়ে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা তখন ব্য়াট হাতে রুদ্র রূপ ধারণ করেন অজি তারকা ব্যাটসম্যান। চার-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন তিনি। মাত্র ২০ বলে নিজের অর্ধশতরান পূরণ করেন স্টয়নিস। ২১ বলে ৫৩ রানে করে রান আউট হলেও ততক্ষণে দিল্লিকে লড়াই করার মত জায়গায় পৌছে দেন। শেষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১৫৭ রান করে দিল্লি ক্যাপিটালস। পঞ্জাবের হয়ে সর্বোচ্চ মহম্মদ শামি তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া শেলডন কটরেল ২টি ও রবি বিষ্ণই একটি করে উইকেট নেন তিনি। 

১৫৮ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে পরপর উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কিংস ইলেভেন পঞ্জাবও। ২১ রান করে মোহিত শর্মার বলে বোল্ড হন পঞ্জাবের অধিনায়ক কেএল রাহুল। তারপর দিল্লির হয়ে প্রথম ম্যাচে ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আসেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। প্রথম ওভারেই দুই উইকেট নেন তিনি। প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান করুণ নায়ার ও নিকোলাস পূরণকে। এরপর ক্রিজে আসেন অজি তারকা গ্লেন ম্যাক্স ওয়েল। কিন্তু সপ্তম ওভারে কাগিসো রাবাডার শিকার হন তিনিও। ৩৫ রানে চতুর্থ উইকেট পড়ে  পঞ্জাবের ।একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের উপর। এরপর কিছুটা লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করেন সরফরাজ খান ও মায়াঙ্ক আগরওয়াল। কিন্তু ব্যক্তিগত ১২ রানে অক্সর প্যাটেলের বলে আউট হন সরফরাজ খান। ৫৫ রানে ৫ উইকেট পড়ে পঞ্জাবের।

এরপর একদিক থেকে পঞ্জাবের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন মায়াঙ্ক অগগরওয়াল। তাকে যোগ্য সঙ্গত দেওয়ার চেষ্টা করেন কৃষ্ণাপ্পা গৌতম। ষষ্ঠ উইকেটে ৪৬ রানের পার্টনারশিপ করেন দুজন। দলের ১০১ রানের মাথায় রাবাডা বলে আউট গৌতম। তিনি করেন ২০ রান। যদিও অপরদিক থেকে নিজের ইনিংস চালিয়ে যান মায়াঙ্ক আগরওয়াল। নিজের অর্ধশতরানও পূরণ করেন তিনি। একইসঙ্গে অবিশ্বাস্য  ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু ১ রান বাকি থাকতে আউট হয়ে যান মায়াঙ্ক। সেই সেই রান আর তুলতে পারেনি পঞ্জাব। পরপর  ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ টাই করে ব্যাটিংয়ের মত বোলিংয়ে দিল্লির হিরো হয়ে যান মার্কাস স্টয়নিস। সুপার ওভারে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ রান করে পঞ্জাব। কাগিসো রাবাডা কেএল রাহুল ও নিকোলাস পূরাণকে পরপর আউট করে দেন। ৩ রানের টার্গেট সহজেই তাড়া করে জয় তুলে নেয় দিল্লি ক্যাপিটালস দল।