কাল রাতে আইপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব এবং দিল্লি ক্যাপিটালস। টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কে এল রাহুলের পাঞ্জাব। গোটা ম্যাচ জুড়ে ঘটেছে অসংখ্য চোখে পড়ার মতো ঘটনা যা ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। জেনে নিন সেই ঘটনা গুলি সম্পর্কে। 

দুবাইয়ের পিচের ঘাস-
দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মাঠে ঘাস থাকবে জানা ছিল, কিন্তু তা যে এতটা প্রভাব ফেলবে কেউ হয়তো ভাবেননি। পাঞ্জাবের ওপেনিং বোলার সামি এবং কটরেলের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। 

ভরসার নাম আইয়ার -
দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর পন্থের সাথে জুটি বেঁধে পরিস্থিতি সামাল দেন দিল্লি অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। প্রথমে রক্ষণাত্মক এবং পরে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে, খামখেয়ালি পন্থকে সামলে পঞ্চল উইকেটে জাতীয় দলের সতীর্থর সাথে জুটি বেঁধে ৭৩ রান তোলেন তারা, যা দিল্লিকে ম্যাচে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। 

সামি-বিশ্নই ম্যাজিক-
লকডাউনে নিজের ফার্মহাউসে পিচ তৈরি করে বোলিং অভ্যাস জারি রেখেছিলেন বাংলার হয়ে খেলা পেসার। সেই পরিশ্রম যে জলে যায়নি তা আজ ১৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে প্রমান করলেন। অপরদিকে সদ্য অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা ভারতীয় লেগস্পিনার রবি বিশ্নইয়ের বুদ্ধিদীপ্ত স্পিন বোলিং প্রমান করলো আরও বড় মঞ্চের জন্য তৈরি তিনি। মাত্র ২২ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তাদের বোলিং দিল্লিকে বড় স্কোরে পৌঁছতে দেয়নি। 

মারকাটারী স্টোইনিস-
একসময় মনে হয়েছিল দিল্লির ইনিংস শেষ হবে ১২০ থেকে ১৩০ রানের মধ্যে। কিন্তু ক্রিস জর্ডানের শেষ ওভারে তিনটি চার ও দুটি ছক্কার সাহায্যে ২০ বলে অর্ধশতারান পূরণ করে দিল্লিকে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেন অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার স্টোইনিস। পরে পাঞ্জাবের ইনিংসের শেষ ওভারে শেষ দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে তিনিই খেলা নিয়ে গিয়েছিলেন সুপার ওভারে।

অসাধারণ অশ্বিন-
ছন্দে থাকা লোকেশ রাহুল, মোহিত শর্মার বলে আউট হয়ে ফেরার পর কিংস ইলেভেনের টপ অর্ডারকে ভাঙেন অভিজ্ঞ রবিচন্দ্রন অশ্বিন। পাওয়ার প্লে-এর শেষ ওভারে চার বলের ব্যবধানে করুন নায়ার ও নিকোলাস পুরানকে ফিরিয়ে পাঞ্জাব শিবিরে বড়সড় ধাক্কা দেন তিনি। 

পাঞ্জাবের বড় তারকাদের ব্যর্থতা-
এইরকম ম্যাচে যাদের ওপর অনেকটা ভরসা করবেন ভেবেছিলেন পাঞ্জাব ভক্তরা সেই পুরান এবং ম্যাক্সওয়েলের ব্যর্থতা আজ ভোগালো পাঞ্জাবকে। নিকোলাস পুরান শূন্য এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ১ রান করে ফেরেন। 

মগ্ন মায়াঙ্ক-
মায়াঙ্ক আগারওয়াল হতে চলেছেন টুর্নামেন্টে পাঞ্জাব ব্যাটিংয়ের কালো ঘোড়া। কার্যত একার হাতে দলকে খাদ্যের কিনারা থেকে তুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন জয়ের দোরগোড়ায়। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের শিকার না হলে হয়তো সুপার ওভার অবধি যাওয়ার প্রয়োজনই পড়তো না পাঞ্জাবের। তার ৮৯ রানের অসাধারণ ইনিংসটি অনেকদিন মনে রাখবেন ক্রিকেট ভক্তরা। 

ভরসা দিলেন রাবাদা-
এর আগেও সুপার ওভারে দিল্লিকে জিতিয়েছেন তিনি। তবে আজ যা করলেন তা অতুলনীয়। প্রথম ২০ ওভারের খেলায় নিজের কোটার চার ওভারে মাত্র ২৮ রান দিয়ে নিয়েছিলেন দুই উইকেট। সুপার ওভারে পাঞ্জাবকে আটকে রাখলেন মাত্র ২ রানে। অসাধারণ বললেও কম বলা হয়।