করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশ জুড়ে ৪ মে থেকে শুরু হয়েছে তৃতীয় দফার লকডাউন। তবে প্রথম দুদফার থেকে তৃতীয় দফায় কিছুটা শিথিল করা হয়েছে লকডাউন। তৃতীয় দফার লকডাউনে শর্তসাপেক্ষে খুলেছে কম কর্মচারী থাকা দোকান, পানের দোকান, সেলুন, স্পা, অনাবশ্যক পণ্যে দোকান, এমনকী মদের দোকানও। সোমবার মদের দোকান খোলার পর গোটা দেশের চিত্র দেখেছে মানুষ। খাবার টাকা না থাকলেও, মদের দোকান গুলিতে উপচে পড়েছে সুরাপ্রেমীরা। লাইন দেখলে চক্ষু চড়ক গাছে ওঠার জোগার। সব নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একে অপরে উপরে হুমড়ি কেয়ে পড়েছে মানুষ। ভিড় সামলাতে কার্যত নাকানি-চোবানি খেতে হয়েছে পুলিসকে। আর দেশের এই পরিস্থিতিতে মদের দোকান খোলার সিদ্ধন্তকে মেনে নিতে পারেননি ভারতীয় ক্রিকেটার হরভজন সিং। কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। এত সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাও করচেন ভাজ্জি।

আরও পড়ুনঃইতালিতে ফিরলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো,কোয়ারেন্টাইন কাটিয়ে নামবেন অনুশীলনে

দিনের পর দিন দেশ জুড়ে বেড়েই চলেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যু মিছিলও। ইতিমধ্যেই দেশে আক্রান্তের সংখ্য়া ছাড়িয়েছে ৪৬ হাজার। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৫০০। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের সংখ্যা পুরনো সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মদের দোকান খোলার সিদ্ধান্ত কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না হরভজন সিং।টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেছেন প্রাক্তন ভারতীয় স্পিনার। যেখানে মদের দোকানের লম্বা লাইনের দৃশ্য ফুটে উঠেছে। লিখেছেন, “এতদিন ধরে কষ্ট করে আমরা যে লকডাউন পালন করলাম, আজ মদের দোকানগুলো খুলে সব নষ্ট করে দেওয়া হল। এটা একেবারেই ঠিক হল না। রাস্তায় কত মানুষ বেরিয়ে পড়েছে। কোথায় সামাজিক দূরত্ব? এটা তোমাদের জন্যও ভাল হল না। আমাদের জন্যও না। আর দেশের জন্য তো নয়ই। আমি অত্যন্ত দুঃখিত।” কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তে আখেরে কোনও লাভ হবে না বলেও জানিয়েছেন ভাজ্জি। মদের দোকান খোলার ফলে দেশবাসীকে আরও বিপদের মুখেই ঠেলে দেওয়া হল বলে মন করছেন হরভজন।

 

 

আরও পড়ুনঃপাক ক্রিকেটে দুর্নীতির মাত্রা কখনওই কম ছিল না,বিস্ফোরক মন্তব্য মহম্মদ আসিফের

আরও পড়ুনঃলকডাউনের নিয়ম ভেঙে পার্টি, বিতর্কে ম্যান ইউর ফুটবলার মার্কোস রোজো

শুধু হরভজন নয়, মদের দোকান খোলার সিদ্ধান্তকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা করেছেন বহু মানুষ। তৈরি হয়েছে মিম, ট্রোলও হয়েছেন অনেকে। মদের দোকান খোলার সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে পোস্ট ছেয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই বলেছেন,যারা লাইনে ঠেলে, মারামারি করে মদ কিনে নিয়ে গেল, তাদের মধ্যে অনেকেই নিজের, নিজের পরিবারের ও পাড়া প্রতিবেশীদের জন্য কিনে নিয়ে গেলেন মৃত্যু।