এর আগে ইপিএলের একাধিক প্লেয়ার লকডাউন ভেঙে পার্টি করায় শাস্তির মুখে পড়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন এভার্টন স্ট্রাইকার মোয়েস কিন। সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে লকডাউনে হাউস পার্টিতে মাতেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই লকডাউন অমান্য করায় ক্লাবের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় ইতালিয়ান ফরোয়ার্ডকে। শাস্তি স্বরূপ মোয়েস কিনের দু সপ্তাহের মাইনে কেটে নেয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। যার পরিমাণ প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার ডলার। তার আগে লকডাউন ভেঙে একইভাবে ক্লাবের রোষের মুখে পড়েছিলেন  ম্যাঞ্চেস্টার সিটির প্লেয়ার জ্যাক গ্রিলিচ, কাইল ওয়াকাররা। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে নিজের বাড়িতে দুই যৌন কর্মীর সঙ্গে পার্টিতে মত্ত হয়েছিলেন ম্যান সিটি রাইট ব্যাক কাইল ওয়াকার। সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে ওয়াকারের এই কাজ মোটেই ভালোভাবে নেয়নি তাঁর ক্লাব। বিভিন্ন সংবাদপত্র, ট্যাবলয়েডে ওয়াকারের কান্ডকারখানা প্রকাশ পেতেই তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনে সিটি। প্রয়োজনে তাঁকে জরিমানাও করার কথাও জানানো হয়। এরপর সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিওবার্তায় অনুরাগীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন তিনি। রিয়াল মাদ্রিদের  লুকা জোভিচও করেছিলেন একই ভুল। এবার একই তালিকায় নাম লেখালেন আর্জান্টাই তারকা তথা ম্যাঞ্চেস্টার উইনাইটেড তারকা মার্কো রোজো।

আরও পড়ুনঃফাঁকা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হলে বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

করোনার প্রকোপ রুখতে আগামী ১০মে অবধি আর্জেন্টিনায় বৃদ্ধি হয়েছে লকডাউনের মেয়াদ। আর সেই লকডাউনের নিয়মকেই বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিব্যি বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পার্টি সারলেন রোজো। সঙ্গে চলল তাস এবং ধূমপানও। সম্প্রতি ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওটিতে মেসির দেশের জাতীয় দলের এই ডিফেন্ডারকে দেখা গিয়েছে বাড়ির বাইরে বন্ধুদের সঙ্গে দেদার আড্ডা দিতে। যদিও পরে ইন্টারনেট থেকে ভিডিওটি সরানোর প্রক্রিয়ে শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। নভেম্বরের পর থেকে সোল্কজায়েরের দলে অনিয়মিত হয়ে পড়ায় জানুয়ারিতে ট্রান্সফার উইন্ডোয় লোনে তাঁর পুরনো ক্লাব এস্তুদিয়ান্তেতে ফিরে আসেন রোজো। সে যাইহোক, সম্প্রতি রোজোর এই গাফিলতি দেখে চরম ক্ষুব্ধ ম্যান ইউ কোচ ওলে গানার। সম্প্রতি আর্জেন্টিনায় লকডাউনের মেয়াদ বারানো হলেও তা কিছুটা শিথিল করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। অ্যাথলিটদের বাড়ির ৫০০ মিটার দূরত্বের মধ্যে শারীরীক কসরত করার অনুমতি দিয়েছে সেদেশের সরকার। কিন্তু রোজো যেতা করেছেন, তা পুরোপুরি নিয়ম বহির্ভূত।

আরও পড়ুনঃলকডাউনে নতুন কিছু শিখুন,নিজের অস্ত্র শান দিন,মন্তব্য লিয়েন্ডার পেজের

আরও পড়ুনঃ১৬ মে থেকে শুরুর কথা বুন্দাসলিগা,তার আগে জার্মান ফুটবল লিগে করোনা আক্রান্ত ১০

রোজোর এইব কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই লেখালেখি শুরু হয়েছে ব্রিটিশ মিডিয়ায়। ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মতো সম্ভ্রান্ত ক্লাবের হয়ে খেলা কোনও ফুটবলার যদি এমন কঠিন সময় লকডাউনের নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখান, তাহলে বিজ্ঞাপনটা বোধহয় অনুরাগীদের জন্য খুব একটা সুখের হয় না। যদিও গত এপ্রিলে স্থানীয় প্রায় ২০০ পরিবারের হাতে সংকটের সময় খাদ্যদ্রব্য, পানীয় তুলে দিয়ে মানবিকতার ছাপ রেখেছিলেন প্রাক্তন ম্যান ইউ ডিফেন্ডার। কিন্তু সম্প্রতি এমন কান্ডবজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়ে ক্লাবেরও চক্ষুশূল হলেন আর্জেন্তাইন। লোনে আর্জেন্তিনার ক্লাবে গেলেও খাতায়-কলমে রোজো এখনও ম্যান ইউনাইটেডের নথিভুক্ত একজন ফুটবলার। রোজোর এই কাণ্ড খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে ম্যান ইউ কর্তৃপক্ষ।