আর কয়েক দিনের অপেক্ষা। তারপরই ২০২০-কে বিদায় জানাতে চলেছে গোটা বিশ্ব। নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় বিশ্ববাসী। ২০২০ সালটা যে গোটা পৃথিবীর কাছে খুব একটা সুখকর নয়, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে গোটা বছরভর চলেছে মৃত্যু মিছিল। ক্রীড়া ক্ষেত্রেও নিজের মারণ থাবা বসিয়েছে মহামারী ভাইরাস। ক্রিকেট বিশ্বকে সাময়ীকভাবে শুধু স্তব্ধ করে দেওয়া নয়, ঘটেছে মৃত্যুর ঘটনাও। বছর শেষে দেখে নেওয়া যাক ২২ করোনার থাবা।

বাতিল একের পর এক সিরিজ-
করোনা ভাইরাসের কারণে চলতি বছরে বাতিল হয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক টেস্ট, ওয়ান ডে ও একদিনের সিরিজ। বাতিল হয়েছে টি২০ বিশ্বকাপও। ২০০০ সাল থেকে গোটা বিশ্বে প্রতি বছর গড়ে ৪৫টি টেস্ট ম্যাচ এবং ১৩৫টি একদিনের ম্যাচ আয়োজন করা হয়ে থাকে। সেখানে এবছর বিশ্বের আটটি ক্রিকেট দল মোট ২৫টি টেস্ট ম্যাচ এবং ৫০টি একদিনের ম্যাচ খেলেছে। ১৯৮০ সালে পর এত কমসংখ্যক আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখল ক্রিকেট বিশিব। ধীরে ধীরে ক্রিকেট ফিরলেও, এখনও পুরোপুরি চেনা ছন্দে ফেরেনি ব্যাটে-বলের লড়াই।

বাংলা ক্রিকেট করোনার থাবা-
বাংলা ক্রিকেটেও নিজের মারণ থাবা বসিয়েছে করোনা ভাইরাস। আক্রান্ত হয়েছেন একের পর এক ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব। সেই তালিকায় সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের করোনা আক্রান্ত হওয়া। যার কারণে কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়েছিল খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্য়ায়ের পরিবারকেও কোয়ারেন্টাইনে যেতে হয়েছিল। করোনা টেস্টও করতে হয়েছিল সৌরভকে। হাসপাতাসে বেশ কিছুদিন চিরিৎসা করার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। 

স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়াও, করোনা আক্রান্ত হয়েছেন প্রাক্তন বাংলার ক্রিকেটার তথা রাজ্যের মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লা ও তারপরিবারও। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন  বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা বাংলা বর্তমান দলের অন্যতম নির্বাচক সাগরময় সেন শর্মা, সিএবির আম্পায়ার , আধিকারিকরাও। যদিও সকলেই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আইপিএলে করোনার থাবা-
সাময়িকভাবে করোনার কারণে স্থগিত হয়ে যায় আইপিএল। তারপর টি২০ বিশ্বকাপ বাাতিল হওয়ায় সেই জায়গায় আরব আমিরশাহিতে আইপিএলের আয়োজন করে বিসিসিআই। কিন্তু ককরোনার প্রকোপ থেকে বাদ যায়নি আইপিএলও। করোনা আক্রান্ত হয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের দুই ক্রিকেটার দীপক চাহার ও ঋতুরাজ গায়কোয়াড়। এছাড়াও আক্রান্ত হয়েছেন সিএসকের একাধিক সাপোর্টিং স্টাফ, বিসিসিআই মেডিক্যাল টিমের স্টাফরা। যদিও সব সমস্যা কাটিয়ে উঠে সফলভাবে আইপিএলের আয়োজন করেছে বিসিসিআই।

ভারতীয় ক্রিকেটে করোনার থাবা-
করোনা গ্রাসে চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্য়ান্ড সফরের শেষে আর মাঠে নামেনি ভারতী ক্রিকেট দল। ফের চলতি অস্ট্রেলিয়া সফর দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছে টিম ইন্ডিয়া। করোনা করাল গ্রাসে প্রাণ হারিয়েছেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার চেতন চৌহান। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর বেশ কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন চেতন চৌহান। অবশেষে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রাক্তন ভারতীয় ওপেনার।

পাকিস্তান ক্রিকেটে করোনার থাবা-
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবথেকে বেশি করোনা ভাইরাস থাবা বসিয়েছে পাকিস্তান দলে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন প্রাক্তন দুই ক্রিকেটার তৌফিক উমর ও শাহিদ আফ্রিদি। এছাড়াও ইংল্যান্ড সফররত পাকিস্তান দলে থাবা বসিয়েছিল করোনা থাবা। মহম্মদ  হাফিজ, মহম্মদ আমিরদের একেক বার একেক রকম রিপোর্ট আসায় তৈরী হয় জটিলতা। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড  সফরগামী পাক দলেও থাবা বসায় করোনা ভইরাস। যায় জেরেও বিস্তর জল ঘোসা হয়। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার জাফর সরফরাজের।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে করোনা-
করোনার তাবা থেকে রেহায় পায়নি বাংলাদেশ ক্রিকেটও।  আক্রান্ত হওয়ার খবরে চিন্তা বেড়েই চলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের। গত দুদিনে তিন বাংলাদেশি ক্রিকেটার আক্রান্ত হয়েছেন এই মারণ ভাইরাসে। প্রথমে আক্রান্ত হয়েছিলেন তামিম ইকবালের দাদা প্রাক্তন বাংলাদেশি ওপেনার নাফিস ইকবাল। পরে তামিমের পরিবারে আরও চার সদস্যও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এছাড়া কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন প্রাক্তন বাংলাদেশ অধিনায়ক ও সাংসদ মাশরফি মোর্তাজা। মোর্তাজার পরিবারেও থাবা বসায় কোভিড ১৯। আক্রান্ত হন নাজমুল ইসলাম অপু ও তার মাা-বাবা। শাকিব আল হাসানের বাবাও করোনা আক্রান্ত হন। পরে সকলেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।

পথ দেখাল ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট-
করোনা আবহে ৮ জুলাই ফের শুরু হয় ক্রিকেট। ক্রিকেট ইতিহাসে জৈব সুরক্ষা বলয়ে সিরিজ খেলে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখায় ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। সিরিজে প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে গেলেও, পরের দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের নামে করে ব্রিটিশ লায়ন্সরা। করোনার মধ্যে সাফল্যের সঙ্গে সিরিজ আয়োজন করে বিশ্বকে পথ দেখায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড ও আইসিসি।

তারপর থেকেই ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করে ক্রিকেট। আন্তর্দাতিক সিরিজগুলির পাশাপাশি শুরু হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলিও। তবে নতু পরিবেশে শুরু  হয় খেলা। বল পালিশে থুতুর ব্যবহার বারণ সহ মানতে হয় একাধিক নিয়ম। জৈব সুরক্ষা বলয়, দর্সকশূন্য স্টেডিয়াম সহ আরও একাধিক বিষয়। সবকিছু মিলিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দের পথে ২২ গজ। নতুন বছরে নতুন আশায় বুক বাঁধছে ক্রিকেট বিশ্ব।