শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। সালটা ছিল ২০১৭। বাংলাদেশের এক নম্বর অল রাউন্ডার শাকিব আল হাসান তখন ঢাকা ডাইনামাইটস দলের সদস্য। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে শাকিবের কাছে প্রথম ফোন যায় বুকি দীপক আগরওয়ালের। দীপক এক ব্যাক্তির কাছে বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের নাম্বার চেয়েছিল, সেখান থেকেই প্রথম ফোন আসে শাকিবের কাছে। সাধারণ কথা হয় দুজনের মধ্যে। তার মঝেই ভাসিয়ে দেওয়া হয় ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব। শাকিব সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। 

আরও পড়ুন - সভাপতি সৌরভের দাদাগিরি, ইডেনেই ভারতের প্রথম দিন রাতের টেস্ট

এরপর ২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি, বাংলাদেশে,শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবোয়ের মধ্যে ত্রিদেশীয় সিরিজ চলাকালীন শাকিবের ফোনে একটি শুভেচ্ছা বার্তা আসে। সেখানেই ছিল ম্যাচ গড়াপেটার প্রস্তাব। বুকি আগরওয়াল শাকিবকে লেখেন, ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ হওয়ায় তোমাকে শুভেচ্ছা। আমরা কি এখন থেকেই কাজ করব, নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব?’ আইসিসির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এই ‘কাজ করা’ কথার অর্থ, দলের আভ্যন্তরীণ তথ্য পাচার করা। তিন দিন পর আরও একটি মেসেজ পান শাকিব, সেখানে বুকি লেখেন, ‘ভাই এই সিরিজে কি কিছু হবে? ’ এরপর ২০১৮ সালের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে আবার বুকি দীপক আগরওয়ালের মেসেজ পান শাকিব। সেখানেও দলের ভেতরের খবর জানতে চাওয়া হয় শাকিবের কাছে। 

আরও পড়ুন - প্রথম টি-২০ ম্যাচের আগে সমস্যা ভারত-বাংলাদেশের দলের অনুশীলন নিয়ে

এছাড়াও শাকিবের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য জানতে চাওয়া হয়। শাকিব সে সব কিছুই দেননি। উল্টে শাকিব বলেছিলেন আগে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি আইসিসি’র কালো তালিকায় থাকা বুকি দীপক আগরওয়াল। কিন্তু বারবার একজিন বুকির থেকে সরাসরি ম্যাচ গড়াপেটা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও তিনি কিছুই জানানি আইসিসি’র অ্যান্টি কোরাপশন ইউনিটকে। সেটাই কাল হল শাকিব আল হাসানের। ২ বছরের জন্য ক্রিকেটার বাইরে চলে গেলেন ৩২ বছরের বাংলাদেশি অল রাউন্ডার। 

আরও পড়ুন - ভারতীয় ক্রিকেটের ২২ গজে আবার সৌরভ, রাহুল পার্টনারশিপ