ক্রাইস্টচার্চে প্রথম দিনে দেখা গিয়েছিল শুধুই নিউজিল্যান্ডের দাপট। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংয়ে সব জায়গাতেই ভারতকে টেক্কা দিয়েছিল কিউয়িরা। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পৃথ্বী, পূজারা এবং হনুমা বিহারী অর্ধশতরান করে লড়াই করার চেষ্টা করে। কিন্তু শেষপর্যন্ত মাত্র ২৪২ রানেই শেষ হয় ভারতের প্রথম ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতের ওপর চাপ বাড়ায় নিউজিল্যান্ড। বুমরা, সামীদের তরফ থেকে করা যাবতীয় প্রশ্ন সামলে দেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার টম ল্যাথাম ও টম বান্ডেল। প্রথম দিনের শেষে ৬৩ রানে কোনো উইকেট না খুইয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন দুই কিউয়ি ওপেনার। 

দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই ছবিটা বদলে যায়। গতদিনের দলের রানের সাথে মাত্র ৩ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ড প্রথম উইকেটটি হারায়। উমেশ যাদবের বলে এল.বি.ডব্লিউ হয়ে ৩০ রানে ফেরেন টম বান্ডেল। এরপর অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে হারিয়ে দ্বিতীয় ঝটকাটি দেন যশপ্রীত বুমরা। এরপরে চলে শুধুই সামী এবং বুমরার দাপট। একসময় দুর্ভেদ্য মনে হওয়া নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং তাসের ঘরের মতো ঝরে পড়ে। অপর ওপেনার টম ল্যাথাম অর্ধশতরান করে সামীর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। শেষদিকে ৪৯ রান করে দলকে আবার খানিকটা লড়াইয়ে ফেরান কিউয়ি পেস বোলিং অলরাউন্ডার কাইল জেমিসন। শেষমেষ তিনিও সামীর শিকার হয়ে ফেরেন। ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মহম্মদ শামী। তিনি নেন ৪ উইকেট। ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেন বুমরাও। তার দখলে ৩ উইকেট। দিনের প্রথম উইকেটটি নেওয়ার পর আর উইকেট পাননি উমেশ। এই টেস্টে অশ্বিনের বদলে দলে জায়গা পেয়েছেন রকস্টার স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা। ১০ ওভার হাত ঘুরিয়ে অত্যন্ত চাপা বোলিং করে ২ উইকেট পেয়েছেন তিনিও। এছাড়া নিল ওয়াগনারকে অসাধারণ একটি ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠিয়েছেন তিনি। 

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে প্রথমেই ধাক্কা খায় ভারত। বোল্ট এবং সাউদির বিষাক্ত বোলিংয়ে দুই ওপেনার কে হারায় ভারত। এখন ক্রিজে রয়েছেন কোহলি ও পূজারা। ভারত কত রান এখন টার্গেট দিতে পারে নিউজিল্যান্ডকে সেটাই প্রশ্ন।